
শেষ আপডেট: 2 August 2023 07:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মীয় মিছিলকে আটকানোর অভিযোগে সোমবার রাত থেকেই হিংসার আগুন জ্বলছে হরিয়ানায় (Haryana Violence)। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৭-এর অঞ্জুমান জামা মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। মসজিদ লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছিল। সেই হামলার ঘটনাতেই প্রাণ গিয়েছিল বিহারের বাসিন্দা ১৯ বছরের হাফিজ সাদের (Haafiz Saad), যিনি ছিলেন ওই মসজিদের ইমাম (Cleric Killed In Gurugram Attack)। সেই খবর পাওয়ার পর থেকেই ন্যায়বিচারের দাবিতে চোখের জল ফেলছেন উত্তর বিহারের সীতামারহি জেলার মানিয়াডিহ গ্রামের বাসিন্দারা।
দাদা শাদাবের সঙ্গে ট্রেনে করে গ্রামে ফেরার কথা ছিল হাফিজের। 'শাদাব আমাদের ফোন করে জানায় যে ভাই কিছুতেই সকালের আগে কাজ ছেড়ে মসজিদ থেকে বেরোতে রাজি হচ্ছে না,' জানিয়েছেন হাফিজের মামা।
হাফিজের দাদাও গুরুগ্রামে থাকেন। টিউশন পরিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। চোখের সামনে সাম্প্রদায়িক হানাহানি দেখে তিনি ভাইকে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাফিজ প্রাণের চেয়েও কর্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আর তা করতে গিয়েই প্রাণ হারাতে হল তাঁকে।
১৯ বছরের হাফিজ ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। সূত্রের খবর, গুলি চালানোর আগে তাঁকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। যদিও সেই খবর মানতে পারছেন না হাফিজের বাবা মুশতাক। ছেলের বিরুদ্ধে বড় কোনও চক্রান্ত করা হয়েছিল বলে মনে করছেন তিনি। 'আমার ছেলের কী দোষ ছিল? কেন মসজিদের নায়েব ইমামের উপর এভাবে হামলা করা হয়েছে, কেন অন্যদের ওপর হামলা করা হয়েছে? আমি বিচার চাই। সরকারের কাছে আর কিছুই চাই না,' দাবি মুশতাকের।
'আমরা কাল মুজফফরপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম সাদ এবং তার ভাইকে স্টেশন থেকে আনার জন্য। তার বদলে এখন, আমরা এখানে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় আছি যেটা ওর লাশ নিয়ে আসবে,' হাউহাউ করে কাঁদছেন মুশতাক।
সীতামারহির পুলিশ সুপার মনোজ তিওয়ারি জানিয়েছেন, 'গ্রামটি নানপুর থানার অধীন। আমি এসএইচওকে নির্দেশ দিচ্ছি যে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় পরিবারটির যা সাহায্যের প্রয়োজন, তা যেন করা হয়।'
মোদী দিন চূড়ান্ত করবেন, জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে রাম মন্দিরের উদ্বোধন