দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্যের জন্যই থুবই উপকারি চ্যবনপ্রাশ। স্বাদে তো বটেই পুষ্টিতেও দারুণ মোরব্বা। ক্লান্তি কাটাতে আর শরীরকে ডিটক্স করতে হার্বাল টি-এর তুলনাই নেই। ঘরে ঘরে এখন আয়ুর্বেদের রমরমা। কিন্তু বাজারচলতি চ্যবনপ্রাশ, মোরব্বা, বাদাম, আমলা ক্যান্ডি বা হার্বাল টি কতটা সুরক্ষিত সেই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। আয়ুর্বেদের যাবতীয় ফুড প্রোডাক্টের গুণগত মান যাচাই করার জন্য কেন্দ্রীয় খাদ্য নিয়ামক সংস্থা বা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়াকে (এফএসএসএআই)নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
এর আগে ম্যাগিতে সিসা এবং আজিনামোতো (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট) অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গিয়েছিল বলে ভারতীয় বাজার থেকে নেসলে ইন্ডিয়ার সব পণ্য তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল এফএসএসএআই। এবার আয়ুর্বেদের যাবতীয় খাবার এবং ওষধি পণ্যের গুণগত মান এবং পুষ্টিগুণ যাচাইয়ের জন্য তাদের নির্দেশ দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি পণ্যের পুষ্টিগুণ, সেগুলি তৈরির পদ্ধতি, উপাদান, ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট যাচাই করে দেখতে হবে কেন্দ্রীয় খাদ্য নিয়ামক সংস্থাকে। যেসব আয়ুর্বেদিক পণ্য ভেষজ গাছগাছড়া বা শিকড় থেকে তৈরি হয়, সেগুলির উপাদান ও উপকারিতা বিশদে জানাতে হবে নির্দিষ্ট সংস্থাকে।
বাজারচলতি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য এফএসএসএআইয়ের একটা নিয়ম আছে। খাবারের উপাদান, পুষ্টিগুণ থেকে তৈরি ও প্যাকেটবন্দির দিন-সহ সব ক্ষেত্রেই ওই নিয়মের আওতায় বিভিন্ন মাপকাঠি মানতে হয়। গাছগাছড়া থেকে যেসব পণ্য তৈরি হয় সেই গাছে ব্যবহৃত কীটনাশকেরও মাত্রা নির্দিষ্ট থাকে (যেমন চা)। কিন্তু এতদিন আয়ুর্বেদিক পণ্যের উপর সেইসব নিয়ম লাগু ছিল না। কারণ আয়ুর্বেদিক খাবার বা ওষধি মানেই সেটা পুরোপুরি ঠিক, এই ধারণাই প্রচলিত ছিল এতদিন। যে কোনও কঠিন ব্যধির চিকিৎসায় আয়ুর্বেদিক ওষুধের সাফল্যকে একবাক্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। তাই সেক্ষেত্রে আয়ুর্বেদিক পণ্যের মান যাচাই করত না কোনও সরকারি সংস্থাই। কিন্তু হালে কনফিডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) ও প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারের (পিডব্লিউসি) রিপোর্ট বলছে, বাজারচলতি যেসব আয়ুর্বেদিক পণ্য বিক্রি হয় সেগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক নিয়ম মেনে বানানো হয় না। এগুলির উপাদানেও থাকে ভেজাল। আবার মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্যও দেদার বিকোয় বাজারে। খাদ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই তাই আয়ুর্বেদিক পণ্যের উপর নির্দিষ্ট নিয়ম ও এর উপাদান মাত্রার উপর সঠিক মাপকাঠি যোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্য নিয়ামক সংস্থা।

এআইআই ও পিডব্লিউসি-র সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ৬৯ শতাংশ বাড়িতে আয়ুর্বেদিক পণ্য ব্যবহার করা হত, ২০১৭ সালে এসে সেই নির্ভরতা বেড়েছে ৭৭ শতাংশ। আয়ুষের এক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক বলেছেন, ‘আয়ুর্বেদ আহার’ নামক সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ শুরু করবে এফএসএসএআই। ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার রোগ বা স্থূলত্ব নাশের ক্ষেত্রে ডায়েটে ওটস, রাগীর ব্যবহার বাড়ায় এগুলির উপরেও নানা মাপকাঠি লাগু করেছে এফএসএসএআই। এবার সেই তালিকায় যোগ হতে চলেছে চ্যবনপ্রাশ, আমলা, হার্বাল টি-এর মতো আয়ুর্বেদিক পণ্যও।