দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজোড়া লকডাউনের মধ্যেই এভারেস্টের শীর্ষে পা রাখল চিনা পর্বতারোহীর একটি দল। শুক্রবার সকালে এভারেস্টের নর্থ কল দিয়ে তাঁরা শৃঙ্গ সামিট করেছেন বলে জানা গেছে চিনা সংবাদমাধ্যম থেকে। এ মাসের গোড়া থেকেই শুরু হয়েছিল অভিযান। কালকে দুপুর আড়াইটে নাগাদ সে অভিযানের প্রথম দফায় শৃঙ্গ পর্যন্ত পৌঁছে রুট ওপেন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
দোর্জি শিরিং, তেনজিং নরবু, দুনপা, তাশি গম্বু, শিরিং নরবু এবং দোর্জি-- এই ছ'সদস্যের দলটি এভারেস্টের শৃঙ্গ পর্যন্ত পথ খুলে রোপ ফিক্স করে আসার পরে বাকি সদস্যরা এগোবেন শৃঙ্গের উদ্দেশে। অন্তত ৩১ জন রয়েছেন সে দলে। সব ঠিক থাকলে আর দু-এক দিনের মধ্যে সামিট করবেন তাঁরাও।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রকোপে লকডাউন কয়েকশো দেশে। বাতিল হয়েছে বহু অনুষ্ঠান। এভারেস্ট অভিযানও বাতিল হয়েছে তেমনই। কিন্তু দেশ-বিদেশের অভিযাত্রীদের এভারেস্ট চড়া এ বছরের জন্য বন্ধ হলেও, চিন সরকারের এই দলটি অভিযান শুরু করেছিল এ মাসের গোড়ায়। চিনের এই এভারেস্ট অভিযানের পোশাকি নাম মাউন্ট চোমোলাংমা।
সূত্রের খবর, শৃঙ্গের উচ্চতা মাপা, প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তনের যে কোনও সম্ভাব্য প্রভাব ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করতেই বিশ্বের উচতম এই শৃঙ্গ অভিযান করছেন চিনের পর্বতারোহীরা। কয়েক দিন আগেও একবার সামিট করার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু তুষারধসের ঝুঁকি থাকার ফলে বেসক্যাম্পে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিল আরোহী দল। এবার দ্বিতীয় দফার চেষ্টা সফল হল।

শৃঙ্গে পৌঁছনোর পরে চিনা আরোহীরা একটি লাইভ ভিডিও-ও সম্প্রচার করেন। গত মাসেই এভারেস্টে ৫জি নেটওয়ার্ক পরিষেবা চালু করেছে চিন। নর্থ কল অর্থাৎ চিনের দিক থেকে এভারেস্ট আরোহণের যে রুট, সেখানে ৬৫০০ মিটার উচ্চতার বেসক্যাম্পে ইতিমধ্যেই বসানো হয়েছে একটি বেসস্টেশন। ফলে দুর্গম এই অভিযানেও দ্রুততম মোবাইল পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন সকলে। চিনা মোবাইল হংকং এবং হুয়াই-এর পক্ষ থেকে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের চিনের অংশে বসানো হয়েছে এই ৫জি বেসস্টেশন।
অনেকেই মনে করছেন, এই লকডাউন চলার সময়ে সারা বিশ্বের অনবধানতার সুযোগে আদতে এভারেস্টের দিকে নজর দিয়েছে চিন। দখল করার চেষ্টা করছে এই শৃঙ্গের অধিকার।
কয়েক দিন আগেই চিনের সরকারি খবরের চ্যানেল সিজিটিএন মাউন্ট এভারেস্টের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল। মাউন্ট এভারেস্টের মাথায় সূর্যরশ্মির অপূর্ব বলয় দেখা গিয়েছে সে ছবিতে। ছবিটি যে অপূর্ব সুন্দর, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যা বাঁধিয়েছিল তার ক্যাপশন। চিন ওই ছবির ক্যাপশনে লিখেছিল, “সূর্যের এক অদ্ভুত বলয় দেখা গিয়েছে মাউন্ট চোমোলাংমার মাথায়, যা মাউন্ট এভারেস্ট নামেও পরিচিত। তার ওপরের আকাশে এ দৃশ্য দেখা যায়। এটা চিন-তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।” অর্থাৎ এভারেস্টকে নিজেদেরই বলে দাবি করেছিল তারা।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালে নেপাল ও চিনের মধ্যে যে চুক্তি সাক্ষরিত হয়, তাতে মাউন্ট এভারেস্টকে দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। ঠিক হয়েছিল, শৃঙ্গের দক্ষিণ অংশটি থাকবে নেপালের অধিকারে, আর উত্তর দিক থাকবে চিন-তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলের আওতায়। যদিও সেই অংশকেও বরাবরই নিজেদের বলে দাবি করে এসেছে চিন।
তারই একটা পদক্ষেপ হিসেবে এই অভিযান কিনা, তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছেন সকলেই।