দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুয়োরের মাংস খাওয়ায় সারা পৃথিবীর মধ্যে প্রথম রয়েছে চিন। সে দেশে প্রতি বছর যত শুয়োর লাগে মাংসের জন্য, তার একটা বড় অংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। এবার আফ্রিকান সোয়াই ফ্লু আতঙ্কে সে আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল চিন। চিনের শুল্ক ও কৃষি মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ভারতে এখন শুয়োরদের মধ্যে বাড়ছে আফ্রিকান ফ্লু-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। এই অবস্থায় সেখান থেকে শুয়োর আমদানি করা যাবে না।
চিনের একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক দিনে অসম থেকে যে খামারের এবং বন্য শুয়োরগুলি চিনে পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে অনেকগুলির এই মারণ অসুখ ধরা পড়েছে। তার পরেই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিনের শুল্ক দফতর এবং কৃষি ও গ্রামীণ মন্ত্রক।
এর ফলে চিনের নিজস্ব শুকর উৎপাদনের দিকে জোর বাড়াতে হয়েছে বলে খবর সরকারি সূত্রের। কারণ বছরের প্রথম অংশেই অসুখের কারণে ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৯ শতাংশ কমে গেছে শুকর আমদানি। এর আগে ২০১৮ সালে এই অসুখ আনা দিয়েছিল চিনে। তখনও কয়েক লক্ষ শুকর মারা গেছিল, বড় ক্ষতি হয়েছিল চিনের শুকর চাষে। সেই সময় থেকে ভারত থেকে শুকর আমদানি আরও বেড়েছিল প্রয়োজন মেটাতে। এবার ভাটা পড়ল সেখানেও।
পরিসংখ্যান বলছে, আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু-এর আতঙ্কে গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমেছে চিনে শুয়োরের মাংস বিক্রি। গত বছর ডিসেম্বর থেকে ভারত থেকে মোষের মাংস আমদানি শুরু হয় চাহিদা মেটাতে। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও সীমান্তে অশান্তির কারণে তাতেও বাধা আসে।
মে মাসের গোড়ায় জানা গিয়েছিল আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লুয়ের কথা। অসমে প্রায় আড়াই হাজার শূকরের মৃত্যু হয়েছিল চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু তিন সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই তা পৌঁছে গেল ১৫ হাজারে। নতুন নতুন এলাকাতেও ছড়াচ্ছে রোগটি৷ পরিস্থিতি খুব শিগ্গিরি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই কারণেই রোগ প্রতিরোধে গণহারে শুয়োর নিধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার। ইতিমধ্যেই হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে অসমের ১০টি জেলায়৷ যাঁরা শুয়োর পালন করেন সেই সব চাষিদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৪৪ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্যও কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছে রাজ্য সরকার৷
অসমের পশুপালন দফতরের মন্ত্রী অতুল বোরা জানিয়েছেন, রাজ্যের দশটি জেলা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু-তে৷ একের পর এক শুয়োর মারা যাওয়া উদ্বেগ বাড়ছে সরকারের৷ সংক্রামিত এলাকার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত শুয়োরদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর পরে সংক্রামিত শুয়োরগুলিকে হত্যা করা হবে।
আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু বা এএসএফ গৃহপালিত শুয়োরদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷ এটি অসমের পরে অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে৷ এক প্রাণীর দেহ থেকে আর এক প্রাণীর দেহে সংক্রামিত হয় এই মারণ অসুখ৷ মানুষের দেহে সংক্রমণের ঘটনা এখনও ঘটেনি৷ কিন্তু ২০১৮ থেকে ২০ সালের মধ্যে সে রাজ্যের ৬০ শতাংশ শুয়োর মারা গেছে এই রোগে৷
এবার প্রভাব পড়ল চিনের রফতানিতেও।