দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আতঙ্কেই শহরে থাবা বসাল ডেঙ্গি।
আজ, মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতায় ডেঙ্গির সংক্রমণে মৃত্যু হল বারো বছরের এক কিশোরের। চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, কলকাতায় এই প্রথম ডেঙ্গিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। গত মাসে ডেঙ্গি ও করোনার জোড়া সংক্রমণে দক্ষিণ কলকাতায় মৃত্যু হয়েছিল এক প্রৌঢ়ের। তবে এই কিশোরের শরীরে করোনার সংক্রমণ ছিল না। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ডেঙ্গির সংক্রমণেই মৃত্যু হয়েছে তার।
দিনকয়েক ধরে প্রবল জ্বর। তারপর ডেঙ্গির মতোই উপসর্গ ধরা পড়েছিল ফায়জান আহমেদের। পার্কসার্কাসের বাসিন্দা। সোমবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। রাত ১০টা নাগাদ ভর্তি করা হয় ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভর্তির সময়েই কিশোরের অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক। তাকে দ্রুত এমার্জেন্সিতে ভর্তি করানো হয়। রাতেই একাধিক টেস্ট করেন ডাক্তাররা। জানা গিয়েছে, ছেলেটির শরীরে ডেঙ্গির সংক্রমণ বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছিল। শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেন ডাক্তাররা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আজ দুপুরেই মৃত্যু হয় কিশোরের।
চলতি মাসের প্রথমে ডেঙ্গি ও করোনার সংক্রমণে মৃত্যু হয় দক্ষিণ কলকাতার অশোকনগরের বাসিন্দা, ৬৪ বছরের এক প্রৌঢ়ের। তাঁকে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছিল, তাঁর রক্তের নমুনায় ডেঙ্গি সংক্রমণ ধরা পড়ে। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে করোনার উপসর্গও ফুটে ওঠে শরীরে। পরীক্ষা করে ধরা পড়ে কোভিড পজিটিভ। চিকিৎসকদের বক্তব্য ছিল, ডেঙ্গি ও করোনার জোড়া সংক্রমণে মৃত্যু শুধু রাজ্যে নয় দেশের মধ্যেও প্রথম।
দিনকয়েক আগেই ডেঙ্গি, এনসেফেলাইটিস ও করোনার সংক্রমণ নিয়ে ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথেই ভর্তি হয়েছিল দুটি শিশু। একজনের শরীরে ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম ছিল, সেই সঙ্গেই করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। অন্য আর একটি শিশু এনসেফেলাইটিসের সঙ্গেই কোভিড পজিটিভ ছিল। তবে দুটি শিশুরই ডেঙ্গি ও এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণ সারিয়ে করোনা চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই খবর।