অশোক মালহোত্রা
চেন্নাই সুপার কিংস দলকে মজা করে অনেকে বলছেন ‘‘ড্যাডিজ আর্মি’’। চেন্নাই দলে ধোনি থেকে শুরু করে ওয়াটসন, ডু প্লেসি, ব্র্যাভো, চাওলা, রায়াডু, সবাই বাবাদের দলে পড়ে গিয়েছে। কোনও দলে এতগুলি বাবা নেই, তাই ওই নাম।
চলতি আইপিএলে যখন তারুণ্য শক্তির জয়, সেইসময় কয়েকজন বড় তারকা ফের আলোয় আলোকিত করে দিচ্ছেন চারিদিক। যেমন রবিবার দুবাই স্টেডিয়ামে করলেন ফাফ ডু প্লেসি (৫৩ বলে ৮৭) ও শ্যেন ওয়াটসন (৫৩ বলে ৮৩)। কেউই বিশেষজ্ঞ ওপেনার নন, অথচ এমনভাবে পাঞ্জাব সিংহদের হেলায় হারালেন, মনে হল দুবাইয়ে মাল্টিপ্লেক্সে বসে সিনেমা দেখছেন।
দুই মহাতারকার একজনের বয়স ৩৯, অন্যজনের ৩৭। দুটি বয়সের যোগফল ৭৬। হয়তো দেখা যাবে বিপক্ষ দলের চারজনের বয়স যোগ করলে এই সংখ্যাটিতে যাবে। দুই তারকাই তিনটি ক্রিকেট মিলিয়ে করেছেন দশ হাজার রান। অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ। সব মঞ্চে তরুণদের দিয়ে বাজিমাত হয় না, না হলে কী বলা হতো পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। যে কোন দলে ওপেনারদ্বয় যদি এমনভাবে ব্যাটিং করে তা হলে ড্রেসিংরুমে নির্ঘাত সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজবে। কারণ সবাই তো জেনেই গিয়েছে আমরা আজ একটু বিশ্রাম নিই, আমাদের কাজটাই তো করছেন ওঁরা।
সেটাই করল ওয়াটসন ও ডু প্লেসি। অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ওয়াটসনের নামের পাশে রয়েছে ১১টি চার ও তিনটি ছক্কা। আর দক্ষিণ আফ্রিকান ফাফের পাশে রয়েছে ১১টি চার ও একটি ওভার বাউন্ডারি। দুই নামী তারকাদের ব্যাটিং দাপটে চেন্নাই ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে গেল। পাঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে সামি, কটরেল, জর্ডনদের নিয়ে ছেলেখেলা করল ওই দুই বিদেশী ব্যাটসম্যান।
ক্রিকেটে কিছু ক্ষেত্রে ‘ক্যালকুলেটিভ রিস্ক’ নিতে হয়, আর এটি যে অধিনায়ক নিতে পারে, সেই দল অনেকটা এগিয়ে শুরু করে।
আমি বলছিলাম লোকেশ রাহুলের কথা। নিজে দারুণ ব্যাটসম্যান, প্রতি ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করছে। কিন্তু রবিবার দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচের চরিত্র ভাল করে বুঝে উঠতে পারেনি। বাইশগজ বুঝে উঠতে পারলে তা হলে এত ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটিং করত না। লোকেশ ভেবেছিল এই উইকেটে হয়তো ১৬০-১৭০ রান ঠিক আছে, কিন্তু যদি চালাতে পারত ঝুঁকি নিয়ে দলের রান চলে যেত ২০০-র আশেপাশে।
আইপিএলে রানমেশিনদের তালিকা দেখলে প্রথম দুটি নামই লোকেশ (৫২ বলে ৬৩) ও মায়াঙ্কের (১৯ বলে ২৬)। দুই তারকা ওদিনও শুরুটা ভাল করেছে, কিন্তু আমি বলতে চাইছি আরও চার্জড-আপ ব্যাটিং করলে দলের বাকিদের মধ্যেও বার্তা যেত যে পিচে তেমন সমস্যা নেই।
তবুও মনদীপ সিং (১৬ বলে ২৭) ও নিকোলাস পুরান (১৭ বলে ৩৩) শেষদিকে দারুণ না খেলে দিলে পাঞ্জাব আরও কমে আটকে যেত। পুরান তো রীতিমতো শটের ফুলঝুরি ছোটাল। বরং আমার ভাল লেগেছে চেন্নাইয়ের বোলারদের। তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বোলিং লাইন আপে সেরকম বড় নাম নেই, কিন্তু শার্দুল ঠাকুর, স্যাম কুরানদের কার্যকরি বোলিংই বিপক্ষ দলকে বেঁধে রেখেছিল অনেকটা সময়।
আরও একটা কথা বলতে চাই, এই উইকেটে টসে জিতে লোকেশ কেন যে আগে ব্যাটিং নিল, বোঝা গেল না। কারণ শারজা ছাড়া বাকি সব মাঠেই রাতে শিশিরের একটা সমস্যা রয়েছে, তারপরেও এমন সিদ্ধান্ত কেন ভাবতে অবাক লাগে।
কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব : ২০ ওভারে ১৭৮/৪। লোকেশ ৬৩, পুরান ৩৩, মায়াঙ্ক ২৬, শার্দুল ২/৩৯।
চেন্নাই সুপার কিংস : ১৭.৪ ওভারে ১৮১/০। ডু প্লেসি ৮৭, ওয়াটসন ৮৩।
চেন্নাই জয়ী ১০ উইকেটে।