সূর্যগ্রহণের কারণেই তৈরি হয়েছে করোনা, ধ্বংসও হবে আগামী গ্রহণে, দাবি চেন্নাইয়ের বিজ্ঞানীর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা এল কোথা থেকে?
আমেরিকার কয়েকজন সরকারি আধিকারিকের দাবি ছিল করোনা হল রাসায়নিক মারণাস্ত্র যা তৈরি হয়েছে উহানের বায়োসেফটি ল্যাবরেটরিতে। বিজ্ঞানীরা বলেন, করোনার স্বাভাবিক উৎস আছে। কারণ করোনাভাইরাস তো আগেই ছিল, তারই পরিবারে
শেষ আপডেট: 14 June 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা এল কোথা থেকে?
আমেরিকার কয়েকজন সরকারি আধিকারিকের দাবি ছিল করোনা হল রাসায়নিক মারণাস্ত্র যা তৈরি হয়েছে উহানের বায়োসেফটি ল্যাবরেটরিতে। বিজ্ঞানীরা বলেন, করোনার স্বাভাবিক উৎস আছে। কারণ করোনাভাইরাস তো আগেই ছিল, তারই পরিবারের এক সদস্য জিনের গঠন বদলে সংক্রামক হয়ে উঠেছে। যার কারণেই এই অতিমহামারী। তবে এইসব কিছুকে পিছনে ফেলে আরও একধাপ এগিয়ে চেন্নাইয়ের এক বিজ্ঞানী অদ্ভুত দাবি করে বসেছেন। তাঁর বক্তব্য, না, করোনার কারণ এইসব কিছু নয়। বরং করোনা মহামারীর সঙ্গে নাকি সূর্যগ্রহণের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।
চেন্নাইয়ের ওই বিজ্ঞানীর নাম ডক্টর কেএল সুন্দর কৃষ্ণা। তিনি নিউক্লিয়ার ও আর্থ সায়েন্টিস্ট। দাবি, করোনাভাইরাসের সঙ্গে গ্রহনক্ষত্রের একটা যোগসূত্র রয়েছে। নিছকই এক ভাইরাস পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে না। বরং মহাজাগতিক ঘটনাই এর জন্য দায়ী।
সেটা কীভাবে? গত বছর ডিসেম্বরেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের খবর প্রথম মেলে। বিজ্ঞানীর দাবি, ২৬ ডিসেম্বর ছিল সূর্যগ্রহণ। তারপর থেকেই এমন একটা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কাজেই সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্তরে এমন এক রাসায়নিক বদল হয়েছিল যার থেকেই এই ভাইরাসের জন্ম।
আরও পড়ুন
ডক্টর কৃষ্ণার বক্তব্য অবশ্য এখানেই থেমে থাকেনি। তিনি তাঁর থিওরি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে সূর্যগ্রহণের সঙ্গে ভাইরাস মহামারীর যোগসূত্র রয়েছে। বিজ্ঞানীর দাবি, সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তড়িদাহত কণাদের মধ্যে একটা বড়সড় রাসায়নিক বদল হয়েছিল। এমন এক বায়ো-নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকশন যার কারণে নিউট্রনের বদল শুরু হয়। এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয় যাতে করোনাভাইরাসের নিউক্লিয়াস তৈরি হয়। এই বায়ো-নিউক্লিয়ার ইন্টার্যাকশনই ভাইরাস তৈরির অন্যতম কারণ।
গবেষকের দাবি এই ভাইরাস তৈরি হয়েছে বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারে। এই আয়নোস্ফিয়ার রয়েছে ভূপৃষ্ঠের ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার উপরে। সূর্যরশ্মির প্রভাবে সেখানে তড়িদাহত কণা তৈরি হয়। দিনের বেলা ন্যূনতম ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় এই তড়িদাহত কণা পাওয়া যায়। রাতে এই স্তরই ৯০ কিলোমিটার উপরে উঠে যায়। ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার, এই স্তরটিকে বলা হয় ‘ডি-লেভেল’। এই আয়নোস্ফিয়ারকে কাজে লাগিয়ে রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত করে বার্তা লেনদেন করা হয়। এই স্তরে কীভাবে ভাইরাস তৈরি হতে পারে তার কোনও ধারণাই দিতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা।
যদিও চেন্নাইয়ের গবেষকরের আরও দাবি, এক সূর্যগ্রহণে ভাইরাস তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী সূর্যগ্রহণে সেই ভাইরাস উধাও হয়ে যাবে। আগামী ২১ জুন ফের সূর্যগ্রহণ হবে, এবং এবার একই সঙ্গে হবে সূর্যের বলয়গ্রাস ও পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হবে। এই গ্রহণেই নাকি মহামারীর অবসান হতে চলেছে, এমনটাই দাবি বিজ্ঞানীর।