দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপেক্ষা বেশি দিনের নয়। চাঁদ মুলুকে ফের ছুটে যাবে ইসরোর চন্দ্রযান। ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযাত্রা সফলতার শিখর না ছুঁলেও ব্যর্থ নয়। ফের চাঁদে পাড়ি দিতে চলেছে ইসরোর মহাকাশযান চন্দ্রযান ৩। আগামী বছর ২০২১ সালেই চাঁদে পাড়ি জমাবে চন্দ্রযান ৩, আজ বুধবার এমনই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তৃতীয় চন্দ্রযাত্রার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে ইসরোর অন্দরে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, ২০২২ সালেই চার নভশ্চরকে নিয়ে ইসরোর প্রথম ‘ম্যানড-মিশন’ গগনযান উড়ে যাবে মহাকাশে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে চলচি বছরের শেষ থেকেই। তবে চন্দ্রযাত্রা পিছিয়ে রাখতে চায় না ভারত। গগনযানের আগেই চাঁদে নামবে ইসরোর চন্দ্রযান ৩। দ্বিতীয় চন্দ্রযাত্রার যাবতীয় খামতি পূরণ করা হবে এই মিশনেই। শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে বড়সড় চমক দিতে চলেছে চন্দ্রযান ৩।
চন্দ্রযান ৩-এর প্রযুক্তিতে কী কী বদল আনা হয়েছে সেই ব্যাপারে এখনও মুখ খোলেনি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। তবে গত বছরই ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন বলেছিলেন, আর অরবিটার নয়, এবার হয়তো ল্যান্ডার ও রোভার নিয়েই চাঁদে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান ৩। তৃতীয় চন্দ্রযাত্রার উদ্দেশ্যও হতে পারে চাঁদের আঁধার পিঠ অর্থাৎ দক্ষিণ মেরুর রহস্যের খোঁজ। এই দক্ষিণ মেরুরই কোথাও হারিয়ে গেছে চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রম। চন্দ্রযান ৩ চাঁদের সেই রহস্যময় পিঠেরই গোপন কথা সামনে আনবে।
চন্দ্রযান ৩ নিয়ে ইসরোর অন্দরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আগের বার চাঁদের মাটিতে অবতরণের ক্ষেত্রে যে ভুল হয়েছিল সেটা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা হবে বলে ইসরো সূত্রে খবর। গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর রাতে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরেই ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে থাকা অরবিটার রেডিও সিগন্যাল পাঠালেও তাতে ধরা দেয়নি ল্যান্ডার বিক্রম। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছিলেন, অবতরণের প্রথম পর্যায় গতিবেগের ভারসাম্য বজায় ছিল, অর্থাৎ চন্দ্রপৃষ্ঠের ৩০ কিলোমিটার থেকে ৭.৪ কিলোমিটার দূরত্বে বিক্রমের গতিবেগ স্বাভাবিক ভাবেই ১,৬৮৩ মিটার/সেকেন্ড থেকে কমে যায় ১৪৬ মিটারে। সমস্যা তৈরি হয় দ্বিতীয় পর্যায়ে গিয়ে। চাঁদের মাটির খুব কাছাকাছি গিয়ে গতিবেগে গলদ হয়ে যায় বিক্রমের। যে নির্দিষ্ট মাত্রার বেগ তার সিস্টেমে আপডেট করা ছিল সেটা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রবল বেগে আছড়ে পড়ে বিক্রম। যে জায়গায় তার ল্যান্ড করার কথা ছিল তার থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে। তৃতীয় চন্দ্রাভিযানে সেই ত্রুটি সামলে নেওয়া হবে।