
শেষ আপডেট: 4 September 2019 18:30
• পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের মায়া কাটাতে বেশ কিছুটা সময় লাগে চন্দ্রযানের। ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুম থেকে কম্যান্ড পাঠিয়ে চন্দ্রযানকে ধাক্কা দিয়ে পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পাঠাতে সময় লাগে ২৪ জুলাই। চন্দ্রযান ক্রমশ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে দূরে সরে যেতে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব বেড়ে দাঁড়ায় ২৪১.৫ কিলোমিটার।

• ২৬ জুলাই রাত ১টা নাগাদ আরও পৃথিবীর আরও একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৌঁছয় চন্দ্রযান। পৃথিবী থেকে সর্বাধিক ৫৪ হাজার ৮৪৮ কিলোমিটার দূরত্বে। ক্রমশ দূরত্ব বাড়াতে বাড়াতে ৬ অগস্ট পৃথিবীর সঙ্গে সব সংযোগ ছিন্ন করে চন্দ্রযান ২।
• ১৪ অগস্ট রাত ৩টে থেকে ভোর ৪টে’র মধ্যে চন্দ্রযান সোজা ঢুকে পড়ে লুনার ট্রান্সফার অরবিটে, যাকে সহজ ভাষায় বলা যায় চাঁদে যাওয়ার রাস্তা। পৃথিবীর অভিকর্ষজ বল এখানে কার্যকরী নয়। ওই সময় চন্দ্রযান-২ পৃথিবীর সর্বাধিক দূরত্ব ছিল ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৫০৫ কিলোমিটার।
• চাঁদের রাস্তা ধরে ছুটতে ছুটতে নিজের গতি নিয়ন্ত্রণ করে চন্দ্রযান। টানা ৬ দিনের সফর সেরে ২০ অগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় লিকুইড চেম্বার ইজেক্ট করে চাঁদের প্রথম কক্ষপথ ১৮০৭৮ কিলোমিটারে ঢুকে পড়ে চন্দ্রযান। সময় লেগেছিল ১৭৩৮ সেকেন্ড।
• পরদিন ২১ অগস্ট, বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ ১১৪ কিলোমিটার*১৮০৭২ কিলোমিটার প্রথম কক্ষপথ ছেড়ে পা রাখে ১১৮ কিলোমিটার*৪৪১২ কিলোমিটার দ্বিতীয় কক্ষপথে। এই সফরে সময় লেগেছিল ১২২৮ সেকেন্ড।
• ২৮ অগস্ট সকাল ৯টা ৪ মিনিটে হই হই করে চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ে চন্দ্রযান ২। তৃতীয় কক্ষের ১৭৯*১৪১২ কিলোমিটার পরিধিতে সফল ইনসারশনে সময় লাগে ১,১৯০ সেকেন্ড।
• ৩০ অগস্ট, সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে চাঁদের উপবৃত্তাকার তৃতীয় কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যায় চন্দ্রযান। এগিয়ে যায় ১২৪*১৬৪ কিলোমিটার চতুর্থ কক্ষের দিকে।
https://www.youtube.com/watch?v=hQ62htM7YoA
• হাই ফাইভ পূর্ণ করে ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিটে। ঠিক ৫২ সেকেন্ডের মাথায় পাঁচ নম্বর কক্ষপথে নিখুঁত ভাবে ইনসারশন হয় চন্দ্রযানের। এটাই শেষ কক্ষপথ। এ বার চাঁদের মাটিতে নামার অপেক্ষা।
• ২ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে চন্দ্রযান থেকে আলাদা হয় ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। সফট ল্যান্ডিংয়ের জন্য ছক সাজানো শুরু করে দেয় সে।
• ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এবং ৪ সেপ্টেম্বর ভোররাত ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে দু’দফায় বিক্রমের পথ বদল করা হয়। কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার এটি বিশেষ পক্রিয়া (Deorbit Manoeuvres) । অরবিটারকে চাঁদের কক্ষপথেই বসিয়ে রেখে চাঁদকে ঘিরে পরিক্রমা শুরু করে ল্যান্ডার।
• ৪ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাঁদ থেকে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-এর দূরত্ব কমে দাঁড়ায় ১০৪*১০০ কিলোমিটার।
• ৫ সেপ্টেম্বর চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-এর সর্বনিম্ন দূরত্ব দাঁড়ায় ৩৫ কিলোমিটার। ইসরো জানিয়েছে, প্রথমে চাঁদের মাটি থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে এনে ল্যান্ডারকে আবার ঠেলে তুলে দেওয়া হবে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে।
• ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৫মিনিটে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে (৭০ ডিগ্রি অক্ষাংশ) পালকের মতো ধীরে ধীরে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। অবতরণের জায়গা হতে পারে দক্ষিণ মেরুর ৭০.৯ ডিগ্রি অক্ষাংশের মানজিনাস-সি ও সিম্পেলিয়াস-এন ক্রেটারের মাঝের যে কোনও সমতলে। প্রয়োজনে পথ বদলে দক্ষিণ মেরুর ৬৭.৭ ডিগ্রি অক্ষাংশেও নামতে পারে ল্যান্ডার।
• ৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ থেকে বেরিয়ে যাবে ৭ কেজি ওজনের ৬ চাকার রোভার ‘প্রজ্ঞান’। চাঁদের এক পক্ষকাল অর্থাৎ ১৪দিন ধরে চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘরে তথ্য ও ছবি পাঠাবে সে।