আরও কাছাকাছি! চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ল চন্দ্রযান, আর বাকি মাত্র ১১ দিন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম, দ্বিতীয় শেষ, এ বার তৃতীয় কক্ষপথ।
কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল মঙ্গলবার সন্ধে থেকেই। বুধবার সকাল ৯টা ৪ মিনিটে হই হই করে চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ল চন্দ্রযান ২। সময় লাগল ১,১৯০ সেকেন্ড। ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের উপবৃত্তাকার
শেষ আপডেট: 27 August 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম, দ্বিতীয় শেষ, এ বার তৃতীয় কক্ষপথ।
কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল মঙ্গলবার সন্ধে থেকেই। বুধবার সকাল ৯টা ৪ মিনিটে হই হই করে চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ল চন্দ্রযান ২। সময় লাগল ১,১৯০ সেকেন্ড। ইসরো জানিয়েছে, চাঁদের উপবৃত্তাকার তৃতীয় কক্ষপথের পরিধি ১৭৯*১৪১২ কিলোমিটার। সেখানেই এখন পাক খাচ্ছে চন্দ্রযান।
চাঁদের মাটিতে পাকাপাকি ভাবে আসর জমাতে তার সময় লাগবে আরও ১১ দিন। ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ‘ম্যানজিয়াস-সি’ এবং ‘সিম্পেলিয়াস-এন’ ক্রেটারের মাঝের সমতলভূমিতে ধীরে ধীরে পা রাখবে (সফট ল্যান্ডিং) ল্যান্ডার বিক্রম। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানিয়েছেন, আগামী ১১ দিনের এই ধাক্কাটা বড়ই উদ্বেগের। চন্দ্রপৃষ্ঠে জমিয়ে না বসা অবধি, স্বস্তি নেই ইসরোর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের।
২০ অগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে লিকুইড চেম্বার ইজেক্ট করে লুনার অরবিটে ঢুকে গিয়েছিল চন্দ্রযান। ১৭৩৮ সেকেন্ড লেগেছিল প্রথম কক্ষপথে পা রাখতে। পর দিন, ২১ অগস্ট চাঁদের প্রথম কক্ষপথের পরিধি ছাড়িয়ে দ্বিতীয় কক্ষপথে ঢুকে পড়ে চন্দ্রযান ২। আজ সকালে পৌঁছল তৃতীয় কক্ষপথে। ৩০ অগস্ট চতুর্থ কক্ষপথ ১৬৪ কিলোমিটারে পৌঁছবে সন্ধে ৬টা নাগাদ। ফাইনাল অরবিট বা পঞ্চম কক্ষপথে পৌঁছবে ১ সেপ্টেম্বর সন্ধা ৭টা নাগাদ।
https://twitter.com/isro/status/1166565017061330944
টুইট করে ইসরো জানিয়েছে, ‘‘চাঁদের তৃতীয় কক্ষপথে চন্দ্রযানের প্রবেশ পুরোপুরি সফল। গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সে এখন উপবৃত্তাকার কক্ষপথে লাট্টুর মতো পাক খাচ্ছে। অভিযানের এখনও বাকি ১১ দিন।’’
অপেক্ষার প্রহর কাটছে না। ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানিয়েছিলেন, চাঁদের প্রথম কক্ষপথে ঢোকার সেই ৩০ মিনিট হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে গিয়েছিল। কক্ষপথে পা রাখার মুহূর্তে উপগ্রহের গতি সামান্য বেশি হলে প্রতিক্রিয়া সেটা পিছিয়ে আসত অনেকটাই। ফলে ইনসারশন সম্পূর্ণ হত না। গতি কম হলে চাঁদের বুকে আচড়ে পড়ত চন্দ্রযান, আর গতি বেশি হয়ে গেলে মহাকাশে হারিয়ে যেত। চান্দ্রায়ন-২ যখন যাত্রা করে, তখন তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ২৪০ কিলোমিটার। পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে মহাকাশে ভ্রমণ করে লুনার ট্রাজেক্টারিতে প্রবেশের আগে তার গতি ও শক্তি ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছে। তবে কক্ষপথে ইনসারশনের আগে চাঁদের কক্ষপথের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চন্দ্রযানের গতি নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।
গত ২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধওয়ন স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান-২। জিয়ো সিনক্রোনাইজড লঞ্চ ভেহিক্যাল থেকে বাহুবলী রকেটের পিঠে চড়ে চন্দ্রযান উড়ে যায় তিনটি অংশ— অরবিটর স্যাটেলাইট, বিক্রম ল্যান্ডার এবং প্রজ্ঞান রোভার নিয়ে। তিনটি অংশ মিলিয়ে ওজন ৩৮৫০ কেজি।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-mitra-crater-named-after-bengali-physicist-sisir-kumar-mitra-the-doyen-of-radio-science-in-india/