
শেষ আপডেট: 10 February 2023 02:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে কোভিড সংক্রমণ ঠেকাতে করোনা টিকা তৈরি করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল দেশের টিকা নির্মাণ সংস্থা, সেরাম ইনস্টিটিউট (Serum Institute)। এবার সেই সংস্থাই বাজারে এনেছে মহিলাদের সারভাইক্যাল ক্যানসারের টিকা (Cervical Cancer Vaccine), সার্ভাভ্যাক (CERVAVAC)। সংস্থার সিইও আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে এ মাসেই বাজারে মিলবে ওই টিকা, দাম পড়বে দু'টি ডোজের জন্য ২০০০ টাকা।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মহিলাদের সারভাইক্যাল ক্যানসার বা জরায়ু মুখের ক্যানসারের পিছনে রয়েছে একটি ভাইরাস, যার নাম হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস(qHPV)। সেরামের দাবি, তাদের টিকা সেই ভাইরাসকেই রুখে দেবে।
গত বছরেই এই বিশেষ ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য অনুমতি দিয়ে দিয়েছিল ডিজিসিআই। সে সময়েই পুনাওয়ালা জানিয়েছিলেন, এই প্রথম ভারতে তৈরি হবে সারভাইক্যাল ক্যানসারের ভ্যাকসিন। তিনি এও নিশ্চিত করেছিলেন, মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে এই ভ্যাকসিনের দাম। গত বছরের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন বাজারে এসে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি, তা একটু দেরি হল কেবল।
এই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস এমন এক ভাইরাস, যা যৌন সম্পর্কের ফলে সংক্রমিত হয়। প্রজাতি অনুযায়ী এই ভাইরাস দেহের বিভিন্ন অংশে প্রভাব ফেলে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসে সংক্রমিত হলেও নিজের শরীরে হয়তো কোনও উপসর্গ থাকে না। কিন্তু যৌন সম্পর্কের ফলে অজান্তেই অন্যকে সংক্রমিত করে ফেলেন তাঁরা।
সারভাইক্যাল ক্যানসারের টিকা এতদিন আনতে হতো বিদেশ থেকে। আমেরিকার গার্ডাসিল টিকা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের দুটি প্রজাতিকে ঠেকাতে পারত। তার দাম ভারতীয় মুদ্রায় পড়ত ১০ হাজার ৮৫০ টাকা। এবার সেরাম ইনস্টিটিউটের দাবি, তাদের টিকা লড়তে পারবে ওই ভাইরাসের চারটি প্রজাতির বিরুদ্ধেই। আর তা পাওয়াও যাবে হাতের নাগালে, অনেক সস্তায়।
সম্প্রতি, সার্ভিক্যাল ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতায় দেশের ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি মেয়েদের এই টিকা দেওয়ার কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনটা হলে মহিলাদের এই ক্যানসার অনেকটাই এড়ানো যাবে। কারণ এখন কেবল বেসরকারি হাসপাতালেই এই টিকা মেলে চড়া দামে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে যত মহিলার মৃত্যু হয় ক্যানসারে, তার একটি বড় অংশই এই সারভাইক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত। এ দেশে মহিলাদের ক্যানসার আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে স্তন ক্যানসার, তার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সারভাইক্যাল ক্যানসার রোগী। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের বেশিরভাগ নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলিতে সারভাইক্যাল ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেশি। সেরামের এই নতুন টিকা সে সব দেশেও আলো দেখাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশ্যালিটি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডক্টর শুভদীপ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, তথ্য বলছে, প্রতি আট মিনিটে এক জন করে ভারতীয় নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে মারা যাচ্ছেন। কারণ, ডাক্তারবাবুর মতে, প্রায় ৫০ শতাংশ রোগীই ডাক্তারের কাছে এসে পৌঁছচ্ছেন স্টেজ থ্রি-তে পৌঁছে যাওয়ার পরে, ২৫ থেকে ২০ শতাংশ আসছেন স্টেজ ফোরে। অর্থাৎ তখন আর চিকিৎসার বিশেষ সুযোগই মেলে না। এর একটা মূল কারণ হল, সচেতনতার অভাব। ৭৫ শতাংশ মহিলাই অজ্ঞানতা ও অসচেতনতার কারণে এত দেরি করে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছন, যে তখন চিকিৎসায় অনেক দেরি হয়ে যায়। মূলত এই কারণেই এ দেশে ক্যানসার আক্রান্ত নারীদের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
অসচেতনতারও কারণ আছে। গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করা মহিলাদের মধ্যে জরায়ু ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রবণতা বেশি। কারণ গ্রামের মহিলাদের মেনস্ট্রুয়াল হাইজিনের বিষয়টি যথাযথ নয়। দেশের মাত্র ১২ শতাংশ মহিলা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। এছাড়াও অসংখ্য ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ছড়িয়ে রয়েছে মেয়েদের মাসিক ঋতুচক্র নিয়ে। সেসবের জেরে তৈরি হওয়া অপরিচ্ছন্নতা সংক্রমণ ঘটায় যৌনাঙ্গে। তা থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সমস্যা। সময়মতো এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রবণতাও কম।
সব মিলিয়ে এই ক্যানসার ক্রমে মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে আগামী কয়েক বছরে, এমনটাই মনে করেন ডাক্তারবাবু। নতুন ভ্যাকসিন বাজারে আসার পরে, টিকাকরণ ব্যাপকভাবে করা যেতে পারে, যার ফলে জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
এপ্রিল থেকেই ভারতের বাজারে বন্ধ হচ্ছে এক ঝাঁক গাড়ি! অটো মোবাইল সেক্টরে আসছে নতুন নিয়ম