৭ জন AERO-র সাসপেনশন ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সিইও দফতর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে - সব কাজই নিয়ম মেনেই হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়ম মেনেই হবে।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 16 February 2026 20:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআর ( West Bengal SIR) প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে ৭ জন AERO-র সাসপেনশন ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সিইও দফতর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে - সব কাজই নিয়ম মেনেই হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়ম মেনেই হবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) বলেন, “লাগামছাড়া ক্ষমতা কাউকেই দেওয়া হয়নি। AERO-দের সাসপেন্ড করা হয়েছে আইন মেনেই। ২০০০ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী এটা করা হয়েছে। এতে সব রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন চুক্তিবদ্ধ। যা হয়েছে, আইন মেনেই হয়েছে।”
তিনি জানান, যে ৭ জন AERO-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা এসআইআর গাইডলাইন (SIR Guildline) লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এর সঙ্গে পরামর্শ করেই একমাত্র রাজ্য সরকার এই ৭ জনের সাসপেনশন প্রত্যাহার (revoke) করতে পারে। অন্য কোনও পদ্ধতি নেই। সিইও আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গই (West Bengal) একমাত্র রাজ্য, যেখানে সরাসরি নির্বাচন কমিশন সাসপেনশনের নির্দেশ দিয়েছে।
নথি আপলোডে গাফিলতি হলে কড়া ব্যবস্থা
বিএলও (Booth Level Officer) থেকে শুরু করে ইআরও - সব স্তরেই নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ির সঙ্গে অন্য নথিও জমা দিয়েছেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইআরও তা আপলোড করেননি এবং যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিইও।
পাশাপাশি এও স্পষ্ট করা হয়েছে, বাংলার বাড়ি বা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা ইন্দিরা আবাস যোজনার শংসাপত্র কেউ যদি 'সোল' ডকুমেন্ট হিসেবে জমা দিয়ে থাকেন এবং সেখানকার ইআরও বা এইআরও সেই শংসাপত্রকেই মান্যতা দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই আবেদন বাতিল তো হবেই সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইআরও বা এইআরও-র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নথি জমার পরও নাম বাদ
অন্যদিকে, শুনানির সময় প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও যদি কারও নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে প্রথমে ডিইও-র কাছে আপিল করতে হবে। সেখানে নিষ্পত্তি না হলে রাজ্যের সিইও-র কাছে আপিলের সুযোগ থাকবে।
প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ২ লক্ষ ৮ হাজার ৮৭০ জন অযোগ্য (Ineligible) ভোটার চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষের মুখে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট - নিয়মভঙ্গ করলে কোনও রেয়াত নেই, এবং ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই প্রধান লক্ষ্য।