বৃহস্পতিবার সকালে ইডির অভিযান শুরুর খবর পেয়ে প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার। কিছুক্ষণ পর মুখ্যমন্ত্রীকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়। সেখান থেকে তিনি যান সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে। সেখানেও ইডির তল্লাশির মধ্যেই হাজির হন তিনি। এই ঘটনাকেই তদন্তে বাধা বলে দাবি করে বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এদিন ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অফিসারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানায় ইডি। তবে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলাটি মুলতুবি রেখে শুনানির দিন ধার্য করেন ১৪ ফেব্রুয়ারি। জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়ে এদিন ইডি ফের কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হলেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেহেতু মামলাটি একটি নির্দিষ্ট এজলাসে মুলতুবি রয়েছে, তাই অন্যত্র তা স্থানান্তর করা যাবে না। ফলে ১৪ তারিখেই মামলার শুনানি হবে।
এর পরেই আইনি বিকল্প খতিয়ে দেখতে শুরু করে ইডি। সূত্রের দাবি, আগামিকালই শীর্ষ আদালতে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
প্রসঙ্গত, এদিন এজলাসে বারবার সতর্ক করার পরও হইচই বন্ধ না হওয়ায় এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ভিড় না কমায় বিচারপতি লিখিত নির্দেশে জানান, এদিনের মতো মামলার শুনানি স্থগিত রাখা হচ্ছে। ফলে শুক্রবার কোনও শুনানি হয়নি। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৪ জানুয়ারি মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। এদিন মামলার লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থাও ছিল না।
ফলে আইপ্যাক–ইডি তল্লাশি ঘিরে শুরু হওয়া এই টানাপড়েন যে এবার রাজ্য–কেন্দ্র সংঘাতের আরও বড় মঞ্চে পৌঁছতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।