
শেষ আপডেট: 18 February 2023 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যগুলিতে (states) শনিবার স্বস্তি দিলেন কেন্দ্রের (Center) অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তিনি ঘোষণা করেছেন, জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ (GST sector) রাজ্যগুলির প্রাপ্য প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্মলা জানান, শনিবার পর্যন্ত এই খাতে রাজ্যগুলির প্রাপ্য অঙ্কের পরিমান দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। শনিবার জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি জানান, জিএসটি ক্ষতিপূরণ খাতে এখন এই পরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট তহবিলে নেই। তবু কেন্দ্রীয় সরকার নিজের তহবিল থেকে এই অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে রাজ্যগুলি প্রভূত উপকৃত হবে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য দাবি জানিয়ে আসছিল, কেন্দ্র প্রাপ্য মেটাক। বাংলায় এই বাবদ যে টাকাই আসুক না কেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে তা রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দেবে। রাজ্যের ভাঁড়ারে এখন নগদের জোগান দরকার।
তবে নির্মলার সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোহ কম। কারণ, কেন্দ্র প্রথমত বকেয়া মেটাচ্ছে। রাজ্যগুলি বরং অভিযোগ করছিল প্রাপ্য টাকা না দিয়ে কেন্দ্র অসহযোগিতা করছে।
তাছাড়া, অর্থমন্ত্রী যতই কেন্দ্রের তহবিল থেকে টাকা মেটানোর কথা বলুন না কেন, এই অর্থ দিল্লির সরকার সেস খাতে আয় থেকে পেয়ে যাবে। জিএসটি চালু করার সময় বলা হয়েছিল, নতুন কর ব্যবস্থা চালুর ফলে রাজ্যগুলির প্রাথমিক ক্ষতি মিটিয়ে দিতে কেন্দ্র পাঁচ বছর পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেবে। সেই টাকা আবার কেন্দ্র সেস বসিয়ে তুলে নিতে পারবে। সেস বাবদ প্রাপ্য অর্থের ভাগ কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে দেবে না। বস্তুত, কেন্দ্রের জন্য এই খাতে আয়ের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই।
জিএসটি বকেয়া মেটাতে কেন্দ্রীয় সরকারের এত উদার হওয়ার কারণ কী? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ত্রিপুরা, মেঘালয়ের পরও চলতি বছরে আরও সাতটি রাজ্যে বিধানসভার ভোট আছে। তারমধ্যে বিজেপি-অবিজেপি শাসিত রাজ্য, দুই-ই আছে। একদিকে, ভোটের আগে বঞ্চনা নিয়ে অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ বন্ধ করা দরকার। আবার কর্নাটকের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যের হাতে টাকার জোগান বাড়ানোর দলীয় দায়বদ্ধতা রয়েছে অর্থমন্ত্রীর। রাজ্যগুলির বকেয়া মেটাতে তাই কেন্দ্রের নিজস্ব তহবিলও উন্মুক্ত করলেন নির্মলা।
৩১৭ জন পড়ুয়াকে সামলাতে হিমশিম দুই শিক্ষিকা, ‘অলিখিত নিয়োগ’ বর্ধমানের স্কুলে