
শেষ আপডেট: 19 November 2018 10:30
কাঠুয়া গণধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পরে, এই মামলা লড়ার কারণেই সংবাদ-শিরোনামে জায়গা করে নেন দীপিকা৷ তিনি জানিয়েছিলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি এই মামলা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি৷ এই মামলার জন্য তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি৷ সেই সময়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘‘যে কোনও সময়ে আমিও ধর্ষিত হতে পারি৷ আমায় খুন বা পঙ্গু করে দেওয়া হতে পারে৷’’ সোশ্যাল মিডিয়ায় অসংখ্য মিম ছড়িয়ে পড়ে তাঁকে কুর্নিশ জানিয়ে। নারীশক্তির নজির হিসেবে নানা মহলে সম্মানিত করা হয় তাঁকে।
তা হলে কি অন্য কোনও চাপের মুখেই মামলার শুনানিতে হাজিরে দিতে পারছেন না তিনি? সে বিষয়ে কিছু জানায়নি ধর্ষিতার পরিবার। তবে তারা এতটাই অখুশি, যে মামলা থেকে সটান বাতিল করেছেন 'সাহসিনি' দীপিকাকে।
দীপিকা অবশ্য বলছেন অন্য কথা। তিনি জানান, এই মামলায় একাধিক সরকারি আইনজীবী নিযুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বাইরে, তিনি এক জন ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। "আমি মক্কেলের কথা মতো এই মামলাকে হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছি। এর পরে দায়িত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও তুলেছি এই মামলা। এর পরে প্রতিটি শুনানিতে হাজির থাকাটা ব্যক্তিগত আইনজীবীর জন্য অনুমতি-সাপেক্ষ। আমার ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। আমি আমার কাজ করেছি। আমার সমস্ত শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার কথাই নয়। এই বিষয়টি ওঁদের কেউ ভুল বুঝিয়েছেন।"-- বলেন দীপিকা।
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে দীপিকার যুক্তি, ওই পরিবার বক্করওয়াল সম্প্রদায়ভুক্ত, যাঁরা গবাদি পশু নিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায়। জুন মাসে যখন সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি ওঠে, শুনানি শুরু হয়, তখন ওই শিশুর পরিবার কাঠুয়া থেকে লাদাখের পাহাড়ে চলে গিয়েছিল। ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভবই ছিল না বলে দাবি দীপিকার। দীপিকার কথায়, "এটা তো সকলকে বুঝতে হবে, যে পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রাখার থেকেও আদালত ও অন্যান্য আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটা আমার জন্য বেশি প্রয়োজনীয়। আমি সেটা করেছি।"
দীপিকা আরও বলেন, "এখন মামলা একটা জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার পরে সরকারি কৌঁসুলিরা শুনানি এগোচ্ছেন। এখন আর আমার মতো ব্যক্তিগত আইনজীবীর দরকার নেই ওঁদের। কিন্তু মামলা শুরুর সব চেয়ে কঠিন সময়ে যখন ওঁদের পাাশে কোউ ছিল না, তখন আমি ছিলাম। আমি ছাড়া অন্য কোনও আইনজীবী পাশে দাঁড়াতে রাজি হননি। আজ প্রয়োজন ফুরিয়েছে, তাই সহজেই প্রভাবিত হচ্ছেন ওঁরা।"