চেনা ছকের বাইরে! কত্থক ডান্সার হতে চান সিবিএসই টপার করিশ্মা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতে বাঁধা জীবনের তিনি বিরোধী। চেনা ছক উল্টে পাল্টে দেওয়ার মধ্যেই আনন্দ। আঠারোর তরুণী তাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইআইটি-র ধারেকাছেও যেতে চান না। সিবিএসই পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর স্পটলাইট এখন তাঁর দিকেই। তবে সে সব দিকে বিশেষ ন
শেষ আপডেট: 3 May 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতে বাঁধা জীবনের তিনি বিরোধী। চেনা ছক উল্টে পাল্টে দেওয়ার মধ্যেই আনন্দ। আঠারোর তরুণী তাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইআইটি-র ধারেকাছেও যেতে চান না। সিবিএসই পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর স্পটলাইট এখন তাঁর দিকেই। তবে সে সব দিকে বিশেষ নজর নেই মুজফ্ফরনগরের করিশ্মা অরোরার। একজন খ্যাতনামা কত্থক নাচের শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই স্বপ্ন তাঁর।
২০১৯-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে দেখা যায়, শীর্ষস্থানে রয়েছেন দুই কন্যা। গাজিয়াবাদের হংসিকা শুক্লা এবং মুজফ্ফরনগরের করিশ্মা অরোরা। দু’জনেই পেয়েছেন ৫০০-র মধ্যে ৪৯৯ নম্বর। একটি বিষয়ে ৯৯ ছাড়া বাকি সব সবকটিতেই তাঁদের নম্বর ১০০য় ১০০। হংশিকা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস অফিসার হতে চান। তবে ব্যতিক্রম করিশ্মা। নাচকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান তিনি।
“আমার বাবা চান আমি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হই। তবে আমার স্বপ্ন কত্থক শিল্পী হিসেবে দেশ ও দেশের বাইরে নাম করা,” গর্ব ভরে জানিয়েছেন করিশ্মা। নাচই তাঁর প্রাণ, নাচেই ভুবন মাতাতে চান তিনি।

নাচ শেখার শুরু সেই ছেলেবেলা থেকেই, বলেছেন করিশ্মা। বর্তমানে জনপ্রিয় কত্থক শিল্পী গীতাঞ্জলি লালের কাছে নাচের তালিম নেন তিনি। বাবার সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে দিল্লি আসেন নাচ শিখতে। পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়তেও নাচ নিয়েই ভাবনা-চিন্তা, পড়াশোনা করেন। নিজের এলাকার বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েকে নাচের প্রশিক্ষণ দেন তিনি।
করিশ্মার কথায়, “খুব খারাপ লাগে যখন দেখি আমারই মতো ছেলেমেয়েরা কানে শুনতে পায় না, বা মানসিক-শারীরিক ভাবে বিপর্যস্ত। ওদের সঙ্গে কী ভাবে ভাব বিনিময় করা যায় সেটাই এখন শিখছি আমি।”
[caption id="attachment_101594" align="aligncenter" width="615"]

বাবা, মায়ের সঙ্গে করিশ্মা[/caption]
ইংরাজিতে ৯৯ পেয়েছেন করিশ্মা। বাকি সব বিষয়তেই পুরো নম্বর। পছন্দের বিষয় সাইকোলজি। এই সাবজেক্ট নিয়েও ভবিষ্যতে কাজ করতে চান তিনি।
ছোটবেলা থেকেই যথেষ্ট স্বাধীনতা পেয়েছেন করিশ্মা। নিজের মতো করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছেন আগেই। বর্তমান যুগে অভিভাবকদের প্রত্যাশার চাপে অনেকাংশেই হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব। সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আশা তাদের জীবন গড়ে তোলার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। করিশ্মা জানিয়েছেন, কোনওদিনই নিজেদের মতামত তাঁর উপর চাপিয়ে দেয়নি তার পরিবার। নাচকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়াতেও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে তাঁর পরিবারের।