
শেষ আপডেট: 9 January 2024 16:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে শেষ তথা চূড়ান্ত চার্জশিট আদালতে পেশ করেছে সিবিআই। এই সর্বশেষ চার্জশিটে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও দু’জন অভিযুক্তর নাম রাখল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। তাঁদের একজন হলেন, স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শর্মিলা মিত্র এবং মন্ত্রী পদে থাকাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রাইভেট সেক্রেটারি সুকান্ত আচার্য।
রাজনৈতিক মহলের অনেকের বলেন, ২০১৮ সালে এই শর্মিলা মিত্রর জন্যই স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুবীরেশ ভট্টাচার্য। তারপর সুবীরেশের জায়গায় বেহালা কলেজের প্রিন্সিপ্যাল শর্মিলাকে এসএসসির চেয়ারম্যান করেছিল শিক্ষা দফতর। আর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম থেকে ভোট দাঁড়িয়েছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানে রিটার্নিং অফিসার ছিলেন সুকান্ত আচার্য। ভোটে জিতে মন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁকেই সেক্রেটারি করে আনেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
গত নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল যে দু’মাসের মধ্যে শিক্ষা-নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ করতে হবে। এই দুর্নীতি কাণ্ডে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। সিবিআইয়ের পেশ করা সেই চার্জশিটে স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপদেষ্টা শান্তি প্রসাদ সিনহা, কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার, প্রোগ্রাম অফিসার সমরজিৎ আচার্য, সচিব অশোক কুমার সাহা এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম ছিল। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও যাঁরা বেআইনি চাকরি পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ এমন কয়েকজন প্রার্থীর নাম ছিল ওই চার্জশিটে।
এর পর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে সুব্রত সামন্ত রায় এবং প্রসন্ন কুমার রায় নামে দুই ফড়ের নাম রাখা হয়। এর পরের চার্জশিটে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম রাখে সিবিআই।
সিবিআই সূত্রে বলা হচ্ছে, হিসাব মতো নিয়োগ দুর্নীতির চার্জশিটে থাকা অভিযুক্তদের নাম ও পদ পর পর সাজালে দেখা যাবে বট গাছের মতো। যার শিকড়ে নাম পাওয়া যাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্যদের। তার পর স্কুল সার্ভিস কমিশন, প্রাথমিক পর্ষদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, সচিব, উপদেষ্টা মায় প্রভাবশালীদের একটা বড় চক্র ছিল। সেই চক্রের সঙ্গে নিচের তলায় জড়িয়ে ছিলেন কিছু অফিসার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী, ফড়ে ইত্যাদি। সব মিলিয়ে অভিযুক্তদের লম্বা তালিকা।
চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছে সিবিআই। এ ব্যাপারে ১৫ জানুয়ারি থেকে শুনানি শুরু হবে বলে জানিয়েছে আদালত।