
শেষ আপডেট: 7 March 2024 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে শেষমেশ শেখ শাহজাহানকে (Sheikh Shahjahan) বুধবার সিবিআইয়ের (CBI) হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য গোয়েন্দা দফতর সিআইডি। কুখ্যাত এই নেতাকে সন্ধেয় তাদের হেফাজতে এনে রেখেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সি।
মিনাখাঁর বামনপুকুর থেকে গ্রেফতারের পর শাহাজাহানকে যেদিন বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল, সেদিন তার চালচলন ছিল রাজকীয়। বুধবার দেখা যায়, সেই শাহাজাহানই কেমন মিইয়ে গেছে। সিবিআইয়ের দুই অফিসার তাকে হাত ধরে টেনে নামাচ্ছে প্রিজন ভ্যান থেকে।
সূত্রের খবর, খুব শিগগির শাহজাহানকে নিয়ে সন্দেশখালিতে যেতে পারেন সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা। তাদের সঙ্গে থাকতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল নিরাপত্তা।
এখন কৌতূহলের বিষয় তিনটি—
১) তবে শাহজাহানকে সন্দেশখালিতে নিয়ে যেতে পারে সিবিআই?
২) কেন তাকে নিয়ে সন্দেশখালিতে যেতে চান সিবিআই গোয়েন্দারা?
৩) এর কি কোনও রাজনৈতিক অভিঘাত থাকতে পারে?
কেন্দ্রীয় এজেন্সি সূত্রে খবর, আপাতত কয়েকদিন তাঁরা জেরা করবেন শেখ শাহজাহানকে। তার পর সন্দেশখালিতে নিয়ে যাবেন। তবে লোকসভা ভোট ঘোষণার পর শাহজাহানকে সন্দেশখালি নিয়ে যাওয়া হতে পারে। কারণ, সিবিআইয়ের এক সূত্রের কথায়, ইডির উপর হামলার ঘটনা নিয়ে শাহজাহানের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর হয়েছে। কীভাবে সেই হামলা সংগঠিত হয়েছিল, তার নাট্য রূপান্তরের জন্য শাহজাহানকে সন্দেশখালিতে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
তবে শাহজাহানকে সন্দেশখালিতে নিয়ে গেলে নিরাপত্তা ও আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটা উদ্বেগ রয়েছে। সিবিআইয়ের ওই সূত্রের মতে, এ ব্যাপারে রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতার আশা নেই। তাই হতে পারে লোকসভা ভোট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর শাহজাহানকে সন্দেশখালিতে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, তখন আইনশঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারটা অনেকটাই নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যাবে।
ওই সূত্রের মতে, শাহজাহানকে মিনাখাঁর বামনপুকুরেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। কিন্তু সত্যিই শাহজাহান সেখানে ছিল, নাকি প্রায় দু’মাস ধরে অন্য কোথাও লুকিয়ে ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। এও দেখা হবে কার কার আশ্রয়ে ছিল শাহজাহান। কারণ, অপরাধে অভিযুক্ত কাউকে কেউ আশ্রয় দিয়ে থাকলে সেও দায়মুক্ত থাকতে পারে না। তা ছাড়া ইডির উপর হামলার ঘটনায় শেখ শাহজাহানের শাগরেদদের গ্রেফতার বা তাদের হেফাজতে নিতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, লোকসভা ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেশখালির ইস্যুকে জিইয়ে রাখতে চায় বিজেপি। কারণ, বিজেপি মনে করছে এই এক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহিলা জনভিত্তিতে তারা ধাক্কা দিতে পারবে। ভোট ঘোষণার পর শেখ শাহজাহানকে কখনও সন্দেশখালি, কখনও জেলিয়াখালি, কখনও মিনাখাঁয় নিয়ে গেলে তা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তার ফলে সন্দেশখালির ঘটনা জিইয়েও থাকতে পারে। অর্থাৎ এই ঘটনার রাজনৈতিক অভিঘাত থাকতেই পারে। এবং ভোট চলাকালীন এই সব ঘটলে বাংলার শাসক দল যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলবে তাও হয়তো এখনই বলে দেওয়া যায়।