আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী নিগ্রহ ও মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে গতি আনতে এবার আরও সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

নির্যাতিতার বাড়িতে বিশেষ তদন্তকারী দল
শেষ আপডেট: 15 July 2025 23:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী নিগ্রহ ও মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে গতি আনতে এবার আরও সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানার অধীনে আম্বিকা মুখার্জি রোডে অবস্থিত নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছয় সিবিআইয়ের তিন সদস্যের একটি বিশেষ দল। ছিলেন তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজাও। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তদন্তকারীরা। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার পাশাপাশি উঠে আসে নতুন প্রশ্নও।
মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার নিয়ে সিবিআইয়ের উপর আস্থার কথা জানিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “আমার মেয়ে সুবিচার পাক, সেটাই চাই। যদি সিবিআই সঠিক তদন্ত না করে, আদালত নিশ্চয়ই তাদের উপযুক্ত নির্দেশ দেবে।” তাঁর আরও অভিযোগ, প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরেও সিবিআই বারবার সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র দোষী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিবারের দাবি, তাঁদের কাছে অন্য প্রমাণ রয়েছে, যা একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, “আমি তদন্তকারী অফিসারকে বলেছি, যদি আমার মেয়ে সুবিচার পেত, তাহলে কসবা আইন কলেজে বা অন্যান্য জায়গায় এমন ঘটনা ঘটত না। তদন্তে গাফিলতি বলেই অপরাধীরা সাহস পাচ্ছে।” এ দিন তিনি স্পষ্ট জানান, সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই কলকাতা হাইকোর্ট আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। তারপর থেকেই তৎপরতা শুরু করে তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট, পুলিশি তদন্তের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, হাসপাতালে পড়াশোনা চলাকালীন একাধিকবার মেয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছিল বলে তাঁদের জানিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। “আমরা চাইনি সত্যিটা ধামাচাপা পড়ুক, তাই আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। এখন সিবিআই যাতে পুরো ঘটনা সামনে আনে, সেটাই আমাদের আশা,” জানিয়েছেন পরিবারের এক সদস্য।
তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরজি কর হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, নার্স এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থার কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই। হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও উঠে আসতে পারে প্রশ্ন।