প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানা গিয়েছে। যার গাড়ি থেকে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে, তিনি অসমের বাসিন্দা এবং পেশায় রেশন ডিলার ও সুপারি ব্যবসায়ী। তাঁর নাম বিকেন ঈশ্বরারি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 March 2026 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা (West Bengal Assembly Election 2026) হতেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি (MCC)। তার পর থেকেই প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আলিপুরদুয়ারে নাকা তল্লাশির (Alipurduar Naka Checking) সময় বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ি দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। নিয়মমাফিক সেই গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখার সময়ই সামনে আসে নগদের বান্ডিল। ৫০০ ও ১০০ টাকার নোটে ভরা একাধিক গুচ্ছ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানা গিয়েছে। যার গাড়ি থেকে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে, তিনি অসমের বাসিন্দা এবং পেশায় রেশন ডিলার ও সুপারি ব্যবসায়ী। তাঁর নাম বিকেন ঈশ্বরারি।
ঘটনার দিন তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় একটি হোটেলে রাত কাটানোর পর মঙ্গলবার সকালে যখন তাঁরা বেরোচ্ছিলেন, সেই সময় এলাকাজুড়ে নাকা চেকিং চলছিল। নির্বাচন আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই জেলা জুড়ে এই ধরনের তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
গাড়িটি থামানোর পর পুলিশ ধাপে ধাপে প্রতিটি অংশ পরীক্ষা করে। তখনই নগদ টাকার হদিস মেলে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, নির্বাচনের ঠিক আগে এত পরিমাণ টাকা নিয়ে রাজ্যে প্রবেশের কারণ কী।
যদিও অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি নিয়মিতই অসম থেকে আলিপুরদুয়ারে আসেন এবং বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটার জন্য নগদ টাকা সঙ্গে রাখেন। তাঁর কথায়, উদ্ধার হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং বৈধ।
তবে পুলিশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। নির্বাচনের আবহে এই ধরনের নগদ উদ্ধারের ঘটনায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই টাকার প্রকৃত উৎস কী এবং তা অন্য কোনও কাজে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী দিনে তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর থাকবে।