
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 November 2024 20:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের আবহে ফের আক্রান্ত হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী। কর্তব্যরত অবস্থায় ওই কর্মীকে রোগীর পরিবারের আত্মীয়রা বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। এমনকি মারতে মারতে তাঁর জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্যানিং হাসপাতালে।
শুধু জামার কলার ধরেই মারধর নয়, নিরাপত্তাকর্মীর মোবাইল কেঁড়ে নিয়ে ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ঘটনায় ইব্রাহিম মোল্লা নামে একজনকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জোর করে হাসপাতালে ঢুকে অশান্তির চেষ্টা করার চেষ্টা করে রোগীর পরিবার। তার প্রতিবাদ করতেই হাসপাতালের কর্মীর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। যদিও রোগীর পরিবার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাঁদের উপরেই পাল্টা হামলা চায় নিরাপত্তাকর্মী। পরে অভিযোগ পেয়েই হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ক্যানিং থানার পুলিশ।
হাসপাতালের সুপার বলেন, ‘হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত। আমি ইতিমধ্যে পুলিশকে পুরো ঘটনার কথা জানিয়েছি। নিরাপত্তাকর্মীকে বলা হয়েছে আইন মেনে পদক্ষেপ নিতে। এই মুহূর্তে কোনও অভিযোগ পত্র হাতে এসে পৌঁছয় নি।
আরজি কর কাণ্ডের ৯০ দিন কেটে গেলেও মেলেনি সুবিচার। সঠিক বিচার না পেলে আন্দোলনের ঝাঁঝ যে আরও বাড়বে তা জানিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সেই মতো শনিবার কলেজ স্কোয়ার থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। সঙ্গ দেন নাগরিক সমাজও। মিছিলের শেষে তাঁদের তরফ থেকে দেওয়া হয় 'জনতার চার্জশিট'।
প্রথম থেকেই রাজ্যের কাছে হাসপাতালের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন ডাক্তাররা। রাজ্যের তরফে সেই দাবি মেনে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু শনিবার ক্যানিং হাসপাতালের ঘটনায় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রোগীমৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত মাসেই অশান্তি ছড়িয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই হাসপাতালে। সূত্রের খবর, স্থানীয় এক সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন রোগীর পরিবারের আত্মীয়রা। এবার নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।