
শেষ আপডেট: 19 April 2024 19:26
সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং
ক্যানিংয়ের দ্বারিকানাথ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনেই ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত তাকে। কোনও মেয়েকে পছন্দ হলেই চেষ্টা চলত কাছাকাছি হওয়ার। গল্প করতে করতে অনেক সময়ই সঙ্গিনীকে নিয়ে মাতলা ব্রিজের দিকে যেতে দেখা গেছে তাকে। সঙ্গিনীর সংখ্যাও নেহাত অল্প নয়। কারণ গার্ল ফ্রেন্ড বদলই যে নেশা। সামাজিক মাধ্যমে রোমিওর নাম আদি দাস।
সম্প্রতি তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল ক্যানিংয়ের গার্লস স্কুলের ক্লাস এইটের এক ছাত্রীর সঙ্গে। কিন্তু ওই ছাত্রীর বাবা-মা তার সঙ্গে মিশতে বারণ করে দেন তাঁদের মেয়েকে। এরপরেই নাকি বাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করে এসে ওই ছাত্রীর মুখে অ্যাসিড মারার হুমকি দেয় সে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এগিয়ে আসেন এলাকার আরও কয়েকজন ছাত্রী ও অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, তাঁরাও নাকি একই অভিজ্ঞতার শরিক। প্রেমে না বলায় ওই ছাত্রীদেরও অ্যাসিড মারার হুমকি দিয়েছে ওই প্রেমিক। এমনকী বাড়ি পর্যন্ত গিয়ে শাসিয়ে এসেছে।
ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। বেশ কয়েকজনের অভিযোগ পেয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। তারপরেই যে পরিস্থিতি তৈরি হয় তারজন্য প্রস্তুত ছিল না পুলিশও। মেডিকেল করাতে নিয়ে যাওয়ার পর জানা যায় সে ছেলে নয়, মেয়ে। ছেলেদের পোশাক পরে থাকত এবং ছেলেদের মতোই আচার-আচরণ করত। মূলত ১৪-১৫ বছরের মেয়েদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখত ওই নাবালিকা। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়ের সাথে যোগাযোগ রেখে সম্পর্ক তৈরি করত।
মেয়ে হয়ে মেয়েদের সঙ্গে কেন প্রেমের অভিনয় করত? কেনই বা অ্যাসিড মারার হুমকি দিচ্ছিল তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এখনও তেমন সদুত্তর মেলেনি বলেই পুলিশের দাবি। পুলিশ কর্তারা জানান, ধৃত নাবালিকার কথাবার্তাতে যথেষ্ট অসঙ্গতি আছে। মেয়েটিকে পাচার চক্রের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।