
শেষ আপডেট: 26 October 2023 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোকা থেকে ধর্মতলা বা বিবাদী বাগের মেট্রো লাইনের কাজ নানা কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বর্তমানে জোকা থেকে তারাতলা পর্যন্ত মেট্রো চললে, বাকি পথ সম্প্রসারণের কাজ এখনও চলছে। এই পথের অনেকটা অংশের কাজের জন্য প্রয়োজন ছিল সেনার অনুমতির। সেই অনুমতি মেলার পরই কাজে গতি বাড়িয়েছিল কলকাতা মেট্রো রেল। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে সেই কাজ ফের থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তারাতলা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত রুটের অনেকটা পথই ময়দান চত্বরের ওপর দিয়ে যাবে। পার্কস্ট্রিট, ভিক্টোরিয়ার মতো জায়গায় স্টেশন হবে। মাটির নীচ দিয়ে যাবে মেট্রো। কোথায় কোথায় স্টেশন হবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করার কাজ শেষ করেছে দায়িত্বে থাকা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা আরভিএনএল। কিন্তু মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ শেষ করতে ময়দান চত্বরের বেশকিছু গাছ কাটার প্রয়োজন ছিল। হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার গাছ কাটার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল।
মোমিনপুর থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত বিস্তৃত মেট্রো রুটে কাজ শেষ করতে ময়দান চত্বরের প্রায় ৭০০টি গাছ কাটা হতে পারে বলে জানা গিয়েছিল। তাতেই আপত্তি জানায় শহরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। গাছ কাটা আটকাতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা।
বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই মামলাকারীরা নিজেদের উদ্বেগের কথা জানান। তাঁদের অভিযোগ, ময়দান চত্বরে গাছ কাটার প্রয়োজনীয় অনুমতি নেই কলকাতা মেট্রো রেলের কাছে।
শুনানিতে গাছ কাটার ব্যাপারে উদ্বেগ জানান বিচারপতিও। তিনি বলেন, শহরের যেকোনও মানুষই এটা স্বীকার করবেন যে ময়দান শুধুমাত্র একটা খোলা জায়গা নয়, তার থেকেও অনেক বেশি। ময়দান এই শহরের ফুসফুস। কলকাতা শহর সেইসব শহরগুলির মধ্যে অন্যতম যেখানে তাপমাত্রা ১৯৫০ সালের পর থেকে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিচারপতির কথায়, মেট্রোর কাজের জন্য ময়দান চত্বরে যে সংখ্যক গাছ কাটার কথা বলা হচ্ছে তা উদ্বেগের। মেট্রোর কাজের জন্য আপাতত কোনও গাছ কাটতে পারবে না নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল। আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত গাছ কাটার ওপর অন্তরর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি থাকবে। আগামী ৯ নভেম্বর এই মামলায় পরবর্তী শুনানি। সেই শুনানিতেই পরবর্তী নির্দেশ দেবে হাইকোর্ট।