সুরজিৎ দেবের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার মক্কেল আজ মুক্ত, কিন্তু যাঁর জীবন থেকে এগারোটা বছর কেটে গেল, তার ক্ষতিপূরণ কী?”

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক যুগ আগে শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং লটে দেহ উদ্ধার কাণ্ডে অবাক করে দেওয়া মোড়, খালাস পেলেন তিন অভিযুক্ত! হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, পুলিশের তদন্তে বহু ফাঁক-ফোকর ছিল। এতটাই যে, তা দিয়ে কাউকে দোষী প্রমাণ করা যায় না। আদালতের এই রায় ঘিরে আবারও মুখ পুড়ল তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা, প্রশ্ন উঠল বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে।
আদালত সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের ২০ মে। গরমের ছুটির মাঝবেলা। শিয়ালদহ স্টেশনের ব্যস্ত পার্কিং লটে পড়ে ছিল দড়ি বাঁধা এক লেপ, একটি বড় ট্রলি ব্যাগ আর একটি স্কুল ব্যাগ। সন্দেহ হওয়ায় তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় জিআরপিএফকে। ব্যাগ খোলার পর চমকে যায় গোটা শহর, মেলে এক মহিলার খণ্ডবিখণ্ড মৃতদেহ।
পরবর্তীতে জানা যায়, মৃতা ওই মহিলা হলেন জয়ন্তী দেব। সেই সময় পুলিশ দাবি করে, খুনের মূল চক্রী স্বামী সুরজিৎ দেব। সঙ্গে অভিযুক্ত করা হয় তাঁর বান্ধবী লিপিকা পোদ্দার এবং এক যুবক সঞ্জয় বিশ্বাসকে। অভিযোগ, পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে পার্কিং লটে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্তের পর ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তিনজনকেই দোষী সাব্যস্ত করে এবং ফাঁসির সাজা ঘোষণা করে। পরে ২০১৯ সালে সেই রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আর্জি জানান অভিযুক্তেরা।
সোমবার, দীর্ঘ শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বার রশিদীর ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানায়, 'তদন্তে বহু ফাঁক-ফোকর রয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ যথেষ্ট নয়। এমন তদন্তের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।'
এরপরই আদালত তিন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেয়। সাজা ঘোষণার পর থেকে একটানা এগারো বছর জেল খেটেছেন তাঁরা। আদালতের রায়ের পর প্রশ্ন তুলেছেন অভিযুক্তদের আইনজীবীরা, 'যদি নির্দোষই হন, তবে এই এগারো বছর কে ফিরিয়ে দেবে?”
সুরজিৎ দেবের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার মক্কেল আজ মুক্ত, কিন্তু যাঁর জীবন থেকে এগারোটা বছর কেটে গেল, তার ক্ষতিপূরণ কী?”
আইনি মহলের একাংশ বলছে, এই রায় শুধু তিনজনের মুক্তি নয়, পুলিশের তদন্তের গাফিলতির নগ্ন চিত্র তুলে ধরল। প্রশ্ন উঠছে, জয়ন্তী দেবের প্রকৃত খুনি কে? তদন্ত এবার নতুন করে হবে তো? না কি চিরতরে অধরাই থেকে যাবে এই হত্যার রহস্য?
জানা গিয়েছে, এই রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে পুলিশ ও সরকার। তবে একাংশ মনে করছেন, এই মামলাটি এবার নতুন করে তদন্তের দাবি জানাবে জয়ন্তী দেবের পরিবার।