২০২৪ সালে আচমকাই জীবনে কালো ছায়া। পকসো মামলায় নাম জড়ায় আব্দুসের। অভিযোগ, এলাকার এক তৃণমূল নেতার চক্রান্তে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাঁকে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 September 2025 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পকসো মামলায় জেলে, তবু থামেনি লড়াই। শিক্ষা-জগতে ফের ফিরে আসার আশায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে চেয়েছিলেন আব্দুস সাত্তার।
কিন্তু বন্দি অবস্থায় সেই পরীক্ষা দিতে অনুমতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট নির্দেশ দেন— পরীক্ষায় বসার অধিকার রয়েছে আব্দুসের। কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দি অবস্থায় তার পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দিতেই হবে।
২০১৬ সালে এসএসসি পাশ করে মাধ্যমিক স্তরে ইতিহাসের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান আব্দুস। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বহু শিক্ষকের সঙ্গে তাঁরও চাকরি বাতিল হয়। তবু ‘দাগি’ তালিকাভুক্ত না-হওয়ায় চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যাওয়ার অনুমতি ছিল তাঁর।
২০২৪ সালে আচমকাই জীবনে কালো ছায়া। পকসো মামলায় নাম জড়ায় আব্দুসের। অভিযোগ, এলাকার এক তৃণমূল নেতার চক্রান্তে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাঁকে। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জামিনের আবেদনও খারিজ হয় আদালতে।
এই অবস্থাতেই আসে এসএসসি-র নতুন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি। আবেদন করেন আব্দুস। অ্যাডমিট কার্ডও পান। কিন্তু পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও, তা পায়নি সম্মতি। বাধ্য হয়ে আইনি পথ বেছে নেন।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ে সেই আশায় আলো। আদালত জানিয়েছে, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ— দুই স্তরের পরীক্ষাতেই বসতে পারবেন তিনি। কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দি অবস্থায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আইনজীবীদের মতে, ‘‘অপরাধ প্রমাণিত না-হওয়া পর্যন্ত কেউ অপরাধী নন। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর পরীক্ষায় বসার অধিকার আছে।’’
আব্দুসের কথায়, ‘‘আমি যোগ্য শিক্ষক। পড়াতে চাই। দেশকে গড়তে চাই। সে সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ।’’ এখন দেখার, জেল হেফাজতে থেকেই কেমন ফল করেন আব্দুস।