২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আরজি কর মেডিক্যালে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়। তার পরেই বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ নিয়ে ক্ষোভ ছড়ায়। সেই প্রেক্ষিতেই জেএনএম কলেজের বেশ কয়েক জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে র্যাগিং-এর অভিযোগ ওঠে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 23:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজের (Kalyani Medical College) ২৮ জন পড়ুয়ার জন্য বড় স্বস্তি। গত বছর হস্টেলে (Hostel) প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে সেই অচলাবস্থা কাটল। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর রায়ে বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীরা হস্টেলে থাকতে পারবেন।
তবে এর পাশাপাশি বিচারপতির সতর্কবাণীও স্পষ্ট— “আপনারা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হবেন। আপনাদের আচরণ ভাল হওয়া উচিত। কলেজের পরিবেশ যেন খারাপ না হয়।”
পটভূমি
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আরজি কর মেডিক্যালে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়। তার পরেই বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ নিয়ে ক্ষোভ ছড়ায়। সেই প্রেক্ষিতেই জেএনএম কলেজের বেশ কয়েক জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে র্যাগিং-এর অভিযোগ ওঠে। পরে ছ’মাসের জন্য তাঁদের হস্টেল ও কলেজ থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।
শাস্তির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন পড়ুয়ারা। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারলেও হস্টেলে প্রবেশের অনুমতি মিলছিল না।
মামলার যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি
মামলার শুনানিতে পড়ুয়াদের আইনজীবী, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন, “২০২৪ সালের নভেম্বরে অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি সর্বাধিক ৩ থেকে ৬ মাসের জন্য হস্টেল প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। অথচ কোনও শুনানি ছাড়াই ওই পড়ুয়াদের দীর্ঘদিন হস্টেলের বাইরে রাখা হয়েছে।”
পাল্টা কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ওই ছাত্রছাত্রীদের আবার হস্টেলে ফিরতে দিলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ খারাপ হতে পারে।
এ ব্যাপারে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ—২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর যে শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছিল, তার সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ। সুতরাং তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের নির্দেশ, মামলায় যাঁদের নাম রয়েছে সবাইকে ১ থেকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে হস্টেলে ঢোকার অনুমতি দিতে হবে।
রাজনীতির রং
শুনানির সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে আরজি করের আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশের অভিসন্ধি। তাঁর দাবি, “তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছাত্রছাত্রীদের বেআইনিভাবে বার করা হয়েছে। অনিকেতরা গুন্ডাগিরি করে তাঁদের তাড়িয়েছে। আরজি করের ঘটনায় আমরা সমব্যথী, কিন্তু সেই ঘটনার সুযোগ নিয়ে বাম, অতিবাম এবং বিজেপি অন্যায় করেছে।”
সব মিলিয়ে, আদালতের রায় শুধু হস্টেলে ফেরার স্বস্তিই দিল না, ভবিষ্যতের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণের বার্তাও স্পষ্ট করে দিল।