
শেষ আপডেট: 2 January 2023 05:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধীর পাশে কি দেখা যাবে বরুণ গান্ধীকে (Varun Gandhi)?
আগামীকাল মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) ভারত জোড়ো যাত্রার (Bharat Jodo Yatra) দ্বিতীয় তথা অন্তিম পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। কাল দিল্লি থেকে রাহুল উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু জায়গা ছুঁয়ে হরিয়ানায় প্রবেশ করবেন। সেখান থেকে যাত্রা রওনা দেবে জম্মু-কাশ্মীর অভিমুখে।
ভারত জোড়ো যাত্রার এই রুট সকলেরই জানা। কিন্তু অন্তিম পর্যায়ে উত্তর ভারতের রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে রাহুলের খুড়তুতো ভাই বরুণকে নিয়ে। রাহুলের পাশে কি ভাই বরুণ গান্ধীকে দেখা যাবে, এই প্রশ্ন ঘুরছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
কংগ্রেস এবং বিজেপির অন্দরমহল এমন সম্ভাবনা কিন্তু উড়িয়ে দিচ্ছে না। এমনিতে রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রার উত্তরপ্রদেশ সাড়া পাওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। তিনি সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতী এবং রাষ্ট্রীয় লোকদলের জয়ন্ত চৌধুরীকে যাত্রায় সামিল হতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই সাড়া দেননি। উল্টে অখিলেশ বলে দিয়েছেন, বিজেপি ও কংগ্রেস মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ।
উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস নেতারা তারপরও নানান ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যাত্রা যাতে গো-বলয়ের সবচেয়ে বড় রাজ্যে ভাল সাড়া পায়। এজন্য ময়দানে নেমেছেন উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস রাজনীতির পুরনো মুখ সলমন খুরশিদ। তিনি রাহুলকে রামের সঙ্গে তুলনা টেনে ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছেন।
কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে এখন মুখে মুখে প্রশ্ন ঘুরছে, বিজেপির পিলভিটের সাংসদ বরুণ গান্ধীকে কি দেখা যাবে দাদা রাহুলের পাশে? এমনকি কেউ কেউ এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না যে অদূর ভবিষ্যতে গান্ধী পরিবারের এই নেতা কংগ্রেসে যোগও দিতে পারেন।
নিজের দলের বিরুদ্ধে বরুণ অনেক দিন ধরেই সরব। যে কারণে তাঁর মা তথা গান্ধী পরিবারের বধূ মানেকা এবং বরুণকে বিজেপি জাতীয় কর্মসিমিতি থেকে বাদ দিয়েছে। ম্যানেকাকে দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।
অন্যদিকে, ভারত জোড়ো যাত্রায় রাহুল যা বলছেন সেই কথাই ভিন্ন শব্দে বলেছেন বরুণ। গত পরশু সাংবাদিক বৈঠক ডেকে পিলভিটের বিজেপি সাংসদ বরুণ বলেন, 'ভাইকে কাটো, ভাইকে মারো, ভাইকে তোড়ো রাজনীতি চলবে না। দেশবাসী এই রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন।'
রাহুল বিজেপি ও আরএসএসকে আক্রমণ করতে গিয়ে একই কথা বলছেন। বলছেন, বিভাজন নিপাত যাক।
নিজের দল বিজেপির বিরুদ্ধে বরুণের জিহাদ নতুন নয়। এর আগে কৃষি বিল, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, এমন নানা ক্ষেত্রেই বিজেপির পিলভিটের সাংসদ তথা সঞ্জয় গান্ধী, মানেকা গান্ধীর পুত্র বরুণ দাদা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুলের ভাষায় কথা বলেছেন। নিশানা করেছেন কেন্দ্রের মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারকে। আর রাহুলের ভারত যাত্রা চলাকালে বরুণের ভাইকে জোড়ো বার্তা দেওয়ায় জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে দুই ভাইয়ের মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে।
বিজেপির অন্দরের খবর, লাগাতার দলের সমালোচনা করার পরও বিজেপি যেভাবে বরুণকে উপেক্ষা করে চলেছে তাতে তাঁর পক্ষে আর সসম্মানে বর্তমান দলে রাজনীতি করা খুব কঠিন। লোকসভা ভোটের আগে তাঁকে বিজেপি ছাড়তেই হবে। সঞ্জয়- মানেকার পুত্রের সঙ্গে কথা চলছে সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় লোকদল এবং বিএসপির সঙ্গেও। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস নেতাদের একাংশ চাইছে রাজ্যে দলকে চাঙ্গা করতে বরুণকে দলে ফেরাতে।
গান্ধী পরিবারের গোলমালের জেরে ছেলেকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মানেকা। তিনি এখন রাজনীতিকে নিষ্ক্রিয়।
লক্ষণীয়, রাহুল গান্ধী ভাই বরুণের ভারত জোড়ো যাত্রা কিংবা কংগ্রেসে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে নিজেকে খুব একটা খোলসা করেননি। গত পরশু বরুণকে নিয়ে প্রশ্নে রাহুল বরং জবাব পাশ কাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। খুবই হালকা চালে তিনি বলেন, বরুণ বিজেপিতে আছে। ওঁর অস্বস্তি বাড়াতে চাই না।
যদিও অন্যদের ক্ষেত্রে রাহুল ঠিক উল্টো কথাই বলেছেন। তাঁর যাত্রা রাজনীতিতে বিভাজন, বিভেদ ঘৃণার বিরুদ্ধে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার এক প্রয়াস, বারে বারে বলেছেন কংগ্রেস নেতা।
অনেকে মনে করছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকে নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট না করলেও বরুণ নিজে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করছেন যাতে রাহুল, সনিয়াদের ঘনিষ্ঠ শিবিরে তাঁর সম্পর্কে একটা জায়গা তৈরি হয়।
যদিও কংগ্রেসের অনেকেই বলছেন, গান্ধী পরিবারের গোলমালের কারণেই সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা কম। বরুণ কংগ্রেসে এলে মিডিয়ার কৌতুহল তাঁর দিকে চলে যাবে। কংগ্রেসে তিনি এবং রাহুল প্রিয়াঙ্কার বাইরে গান্ধী পরিবারের আর কোনও মুখ থাক, চাইবেন না সনিয়াই। এখনও বকলমে তিনিই কংগ্রেস সভাপতি।
শয়তানের নজর পড়েছে! ভূত-তাড়ানোর নাম করে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করল ওঝা