প্রচলিত নিয়ম মেনে কোনও পুকুর বা নদীতে নয়, বরং মন্দির চত্বরে খনন করা অস্থায়ী চৌবাচ্চাতেই বিসর্জন দেওয়া হল দুর্গা প্রতিমার। পুজো কমিটি জানিয়েছে, এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জল দূষণ রোধ করা।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 4 October 2025 15:37
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পরিবেশ সচেতনতায় অনন্য উদ্যোগ। নদী বা পুকুরে নয়, চৌবাচ্চায় প্রতিমা বিসর্জন দিল হ্যাচারিমাঠ সৃজনভূমি সংঘ। পূর্ব বর্ধমানের হ্যাচারিমাঠ সৃজনভূমি সংঘ এর আগেও পরিবেশ সচেতনতায় নানা নজির গড়েছে। এবারও সেই পথেই হাঁটল তারা। প্রচলিত নিয়ম মেনে কোনও পুকুর বা নদীতে নয়, বরং মন্দির চত্বরে খনন করা অস্থায়ী চৌবাচ্চাতেই বিসর্জন দেওয়া হল দুর্গা প্রতিমার। পুজো কমিটি জানিয়েছে, এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জল দূষণ রোধ করা।
গত বছর থেকেই এই পথে হাঁটছে সৃজনভূমি সংঘ। এ বছরও মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ২০ ফুট বাই ২০ ফুট জায়গা খুঁড়ে তৈরি করা হয় অস্থায়ী চৌবাচ্চা। ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা সুশান্ত মুখার্জী বলেন, “প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত রঙ, সাজসজ্জা ও পোশাকে নানা রাসায়নিক থাকে। এগুলি পুকুর বা নদীতে বিসর্জন দিলে জলের ভয়াবহ দূষণ ঘটে। তাই আমরা আমাদের প্রতিমা ও পুজোর যাবতীয় সামগ্রী ওই চৌবাচ্চাতেই বিসর্জন দিই। পরে এটিকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।পরিবেশ রক্ষায় এটাই আমাদের অঙ্গীকার’.
ক্লাব সভাপতি দেবদাস বালা বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই পরিবেশ সচেতনতার উপর জোর দিয়ে আসছি। পাড়ার রাস্তা, ড্রেন, এমনকি জঙ্গলও নিজেরাই পরিষ্কার করি। প্রতিমা তৈরিও করেছি মন্দিরের ভেতরে, যাতে বাইরে অপ্রয়োজনীয় জিনিস পড়ে না থাকে।” বৃহস্পতিবার দশমী হলেও এখানে বিজয়া পালন করা হয় শুক্রবার। বিকেলে পাড়ার মহিলারা দেবীকে বরণ করেন ও সিঁদুর খেলায় মাতেন। এরপর নির্দিষ্ট রাস্তায় প্রতিমা পরিক্রমা করে আনা হয় মন্দির প্রাঙ্গণে। সেখানে ছোট্ট চৌবাচ্চাতেই হয় প্রতিমা বিসর্জন।