
বর্ধমানে আক্রান্ত ব্যবসায়ী
শেষ আপডেট: 22 April 2025 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মুর্শিদাবাদে হিংসাত্মক ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, 'আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না, বাংলায় শান্তি বজায় রাখুন।' তারপরেও প্রকাশ্যে এল শাসক দলের নেতাদের বেপরোয়া আচরণ। খণ্ডঘোষে গভীর রাতে পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢুকে এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীর স্ত্রীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার বিহিত চেয়ে জেলার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন আক্রান্ত ব্যবসায়ী। পরে তিনি খণ্ডঘোষ থানাতেও অভিযোগ করেছেন।
আক্রান্ত ব্যবসায়ীর নাম সুবীর মণ্ডল। খণ্ডঘোষের বেরুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। গত ১৭ এপ্রিল সুবীর মণ্ডল জেলার পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগ পত্র জমা করেছেন। তাঁর আনা অভিযোগ বেশ ভয়ংকর। পুলিশ সুপারকে সুবীর মণ্ডল জানিয়েছেন, ১১ এপ্রিল রাত ১০টা নাগাদ তৃণমূল নেতা সেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাইয়ের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তাদের মধ্যে মিলন মালিক ও সাবির মিদ্দে পাঁচিল টপকে প্রথমে তাঁর বাড়ির ভিতরে ঢুকে বাড়ির মূল দরজা খুলে দেয়। এরপর লকাইয়ের নেতৃত্বে সাবির মিদ্দে, মিলন মালিক,অরূপ সিং, সেখ আনিসুল,আসগর মিদ্দে সহ আরো ৫-৭ জন লাঠি হাতে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে।
সুবীর মণ্ডলের অভিযোগ, বাঁশ ও লাঠি হাতে নিয়ে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ার পর লকাই ও তার দলবল সোজা তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ে। নির্মমভাবে মারতে মারতে তারা তাঁকে ঘর থেকে বাইরে বের করে নিয়ে যায়। মারধরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রীকেও রেহাই দেয়নি। আক্রান্ত সুবীর মণ্ডল ১২ এপ্রিল বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর জেলার পুলিশ সুপারের দফতরে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ১৮ এপ্রিল তিনি খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢুকে হামলা মারধরের সবিস্তার তাঁর বাড়ির সিসি ক্যামেরার ধরা পড়েছে বলে ব্যবসায়ী সুবীর মণ্ডল দাবি করেছেন।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, "আশা করি পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমরা চাই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করুক পুলিশ। অন্যদিকে খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, "কী হয়েছে, সঠিকভাবে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে কেউ অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।"
এসডিপিও (সাউথ) অভিষেক সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। তদন্ত চলছে।
মূল অভিযুক্ত সেখ সাহাদ আলি ওরফে লকাই ১১ তারিখ রাতের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে সুবীর মণ্ডলের বিরুদ্ধেও তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। লকাই দাবি করেন, “এক মহিলার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল সুবীরের। ওই মহিলা সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এলে সুবীর বদলা নেওয়ার জন্য মহিলার নগ্ন ছবি ভাইরাল করে দেয়। আমি প্রতিবাদ করায় সুবীর নোংরা ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে। এমন কী তৃণমূল কংগ্রেস দলের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলে।" এইসব কারণেই সুবীর মণ্ডলের বিরুদ্ধে ক্ষোভের পারদ চড়েছিল বলে লকাই জানিয়েছেন।
সিপিএম নেতা বিনোদ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের রাজত্বে বাড়িতেও কারও নিরাপত্তা নেই। আইনের শাসন, নিরাপত্তা এ সবই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।"