দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামের প্রান্তের কুয়োতে তিন শিশুর দেহ ভাসতে দেখেই আতঙ্কে চিৎকার করে উঠেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। জল থেকে উদ্ধারের পরে দেখা যায় তিনজনের শরীরেই বিঁধে রয়েছে বুলেট। গুলি করে খুন করে ফেলে দেওয়া হয়েছে কুয়োর জলে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শনিবার সকালে উত্তেজনা ছড়াল উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশু তিনটির নাম আসমা (৮), আলিবা (৭) এবং আবদুল্লা (৮)। তাদের বাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে, ধাতুরি গ্রামের একটি কুয়ো থেকে উদ্ধার হয় দেহগুলি। শুক্রবার বিকেলে এদের ছবি দিয়েই থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেছিলেন অভিভাবকরা। পুলিশের অনুমান, খুনটা হয়েছে ওই দিন রাতেই। গ্রামের প্রান্তের ওই কুয়ো সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। তাই সেখানেই ফেলে দেওয়া হয়েছিল দেহগুলি।
তিন শিশুর পরিবারই একে অপরের আত্মীয়। তাই তদন্তকারীদের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই খুন। শিশুদের অভিভাবকদের দাবি, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির সামনে খেলা করছিল তিনজনেই। তার পর থেকেই তাদের খোঁজ মিলছিল না। গ্রামের সব জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও লাভ হয়নি। শেষে থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন তাঁরা। অভিযোগ, প্রথমে নিখোঁজ ডায়রি করতে রাজি হননি নগর কোতোয়ালির স্টেশন হাউস অফিসার। এমনকি, শিশুদের দেহ মেলার পরেও সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে এফআইআর নিতেও চাননি তিনি।
বুলন্দশহরের এসএসপি এন কোলাঞ্চি জানিয়েছেন, গাফিলতির অভিযোগে নগর কোতোয়ালির এসএইচও ও তার মুন্সিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সন্দেহভাজন সলমন মল্লিককে খুঁজছে পুলিশ। তার জন্য তদন্তকারীদের চারটি দল গড়া হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বার করে শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।