পরের দিন সকালে বাড়ির অদূরে ঝোপজঙ্গল থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় এলাকায় শোক এবং তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 18 November 2025 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাদার লালসার শিকার বোন!
অভিযোগ, জেঠু-জেঠিমা চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে গেলে সেই সুযোগে আট বছরের বোনকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করে ১৯ বছরের তুতো দাদা। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই তুতো দাদাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি (South 24 Paragana, Usti) থানা এলাকার ঘটনা।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে জনমানসে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রের খবর, শিশুদিবসের দিন, অর্থাৎ ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকেই আট বছরের মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বাবা-মা তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তারা। পরে উস্তি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
পরের দিন সকালে বাড়ির অদূরে ঝোপজঙ্গল থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় এলাকায় শোক এবং তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুটির পরিবার অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে তুতো দাদার বিরুদ্ধে ভয়াবহ তথ্য। অভিযোগ, শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে বাধা দেওয়ার সময় শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাকে। হত্যার বিষয় আড়াল করতে দেহে দড়ি ব্যবহার এবং অন্যান্য নৃশংসতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে পেশের পর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
নিহত শিশুর পরিবার পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, সে যেন সর্বোচ্চ সাজা পান। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চলছে।” উস্তির এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছাপ এখনও স্পষ্ট।