দ্য ওয়াল ব্যুরো : "আফগানদের নানা পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসা হোক। ওই দেশে ফিরে আসুক স্থিতিশীলতা, শান্তি ও আইনের শাসন।" বৃহস্পতিবার ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের মঞ্চ থেকে এমনই আহ্বান জানানো হল। একইসঙ্গে ব্রিকসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া উচিত। বিশেষত নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন।" ব্রিকস গোষ্ঠীর দেশগুলি মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় বিশেষ জোর দিতে হবে। আফগানিস্তানে যাতে জঙ্গিরা না ঘাঁটি বানাতে পারে, নজর রাখতে হবে সেদিকেও।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্রিকস গোষ্ঠী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাসবাদীরা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে না যেতে পারে, তারা যাতে কোথাও নিরাপদ আশ্রয় না পায়, কোনও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক যাতে তাদের অর্থ না জোগাতে পারে, সেজন্যও চেষ্টা করা হবে।"
ব্রিকস গোষ্ঠীতে আছে পাঁচটি দেশ। সেগুলি হল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিন ব্রিকসের ভারচুয়াল সম্মেলনে মোদী বলেন, "আফগানিস্তান যেন প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে বিপজ্জনক না হয়ে ওঠে। সেখানে যেন জঙ্গিরা ঘাঁটি না বানাতে পারে। সেখান থেকে যেন অন্যান্য দেশে মাদক পাচার না হয়।" পরে তিনি বলেন, "আফগানিস্তানের মানুষ কয়েক দশক ধরে লড়াই করছেন। নিজেদের মতো করে দেশকে গড়ে তোলার অধিকার তাঁদের আছে।"
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, "আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা চলে আসায় নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান কীভাবে আন্তর্জাতিক মহলকে বা প্রতিবেশী দেশগুলিকে প্রভাবিত করবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।" পরে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।"
মোদী জানান, ব্রিকস গোষ্ঠী একটি সন্ত্রাস দমন অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আশা, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ওই গোষ্ঠী আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে। ২০১৬ সালের পরে এবার ফের ব্রিকসের বৈঠকে সভাপতি হয়েছেন মোদী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসেনারো।
এর মধ্যে আফগানিস্তানের নানা প্রান্ত থেকে তাদের অত্যাচারের খবর আসছে। মঙ্গলবার তারা মন্ত্রিসভা ঘোষণা করে। সেখানে কোনও মহিলা স্থান পাননি। এই লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে বুধবার বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। লাঠিপেটা করে ও চাবুক মেরে তাঁদের হটিয়ে দেয় তালিবান। একটি আন্তর্জাতিক চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রতিবাদী মহিলারা স্লোগান দিচ্ছেন, 'আফগান নারী জিন্দাবাদ।' কয়েকজনের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে, 'কোনও সরকারই মহিলাদের অগ্রাহ্য করতে পারবে না', 'আমরা স্বাধীনতার গান গাই।'