দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘‘মন্দির যো বনায়েগা, ভোট উসিকো যায়েগা!” যুব কুম্ভ সম্মেলনে লখনউতে যোগী আদিত্যনাথ, রাজনাথ সিং-এর সামনেই উঠেছে এই স্লোগান। লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগে, দেশ জুড়ে এই গেরুয়া সৈনিকদের মধ্যে রামমন্দিরের জিগির তোলার আরও বড় সুযোগ পেয়ে গেল বিজেপি। কারণ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসের চার তারিখ থেকেই চলবে রামমন্দির-বাবরি মসজিদ মামলার শুনানি।
শীর্ষ আদালত সূত্রে খবর, এই ব্যাপারে একটা তিন সদস্যের বেঞ্চ গঠন করতে চলেছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি সঞ্জয় কিষান কল।
ক’দিন আগেই গোবলয়ের তিন রাজ্যে বিধানসভার ভোটে পর্যদুস্ত হয়েছে বিজেপি। সেই ভোটের আগেও তোলা হয়েছিল রামমন্দিরের ইস্যু। কিন্তু সেই সময় সমস্যা হয়েছিল এই সুপ্রিম কোর্টেরই আদেশ নিয়ে।
এর আগেও অক্টোবর মাসের শেষের দিকে, অযোধ্যা মামলার দ্রুত নিষ্পতি করার জন্য, এই মামলার শুনানি শুরু করতে শীর্ষ আদালতের কাছে আর্জি জানায় উত্তরপ্রদেশ সরকার।
কিন্তু সেই আর্জি নাকচ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি গগৈ জানিয়েছিলেন, কোন মামলা অগ্রাধিকার পাবে সেটা আদালতই ঠিক করবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে, ক্ষুব্ধ হয়েছিল রাম মন্দিরের সমর্থকরা। তাদের কেউ কেউ এই দাবিও তুলেছিল, যে এই বিতর্ক বন্ধ করে সংসদে অর্ডিন্যান্স জারি করুক কেন্দ্র।
প্রায় একশো বছর ধরে বিতর্ক চলছে অযোধ্যার ওই ২.৭৭ একরের জমি নিয়ে। এই নিয়ে তীব্র বিবাদও হয়েছে বহুবার। আটের দশক থেকেই এই নিয়ে আন্দোলন শুরু করে বিজেপি। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, বিতর্কিত ওই জমিতে থাকা বাবরি মসজিদ ভেঙেও ফেলে রামজন্মভূমির সমর্থকরেরা।
রামজন্মভূমি আন্দোলনের ফলেই দেশ জুড়ে উত্থান হয় বিজেপির। কেন্দ্রে ক্ষমতার অন্যতম দাবিদার জাতীয় দলও হয়ে ওঠে তারা।
২০১০ সালে, এই বিতর্কিত জমি নিয়ে রায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সেই সময় হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, যে ওই জমি ভাগ করে দেওয়া হোক রামলালা, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়ার মধ্যে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৪টা আর্জি জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্টে। সেই আর্জিগুলোর ভিত্তিতেই এইবার শুনানি শুরু হবে সুপ্রিম কোর্টে।
বিজেপি দীর্ঘ দিন ধরে চায়, এই বিতর্ক মেটাতে প্রতিদিন শুনানি করুক শীর্ষ আদালত। সোমবারই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা প্রকাশ জাভড়েকরও এমন দাবি তোলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, কিছুদিন আগেই শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, নামাজ পড়ার জন্য কোনও মসজিদের দরকার হয় না।
পর্যবেক্ষকের মতে, তিন রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়ে চাপে বিজেপি। ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহর নেতৃত্ব নিয়েও। নোটবন্দী ও জিএসটি নিয়েও ক্ষুব্ধ দেশের একটা বড় অংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকালই বেশ কিছু সামগ্রীর ওপর জিএসটির কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এমন পরিস্থিতিতে, দেশের উগ্রহিন্দুত্ববাদী অংশকে পাশে পেতে রামজন্মভূমির ইস্যুকে হাত ছাড়া করতে রাজি নয় বিজেপি।
পর্যবেক্ষকদের অনুমান, সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যা বিতর্কের সমাধান ভোটের আগেই হয়ে যাবে এমন আশা কম। কিন্তু সেক্ষেত্রে, বিজেপির নেতারা বলতে পারবেন যে বিষয়টা আদালতের বিচারাধীন। রাম জন্মভূমি নিয়ে অর্ডিন্যান্স জারি করলেও তার তীব্র বিরোধিতা করত বিরোধীরা। ফলে ভোটের আগে সমস্যায় পড়ত বিজেপিই। কিন্তু এখন বিষয়টা সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন হওয়ায়, কট্টরপন্থীদেরও সামলাতে সুবিধে হবে।