কেরলের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এখন আগাম সতর্ক হয়ে মিল্টেফোসিন দেওয়া হচ্ছে অ্যাম্ফোটেরিসিন-বি-র (Amphoterisine B) মতো প্রচলিত ওষুধের পাশাপাশি।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 18 September 2025 20:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলে আতঙ্ক ধরিয়ে মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার সংক্রমণ (Brain Eating Amoeba)। এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সময়মতো রোগ ধরা না পড়লে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় নিশ্চিত। এদিকে চিন্তার ভাঁজ বাংলার মানুষদের কপালে। কেরল থেকে এরাজ্যে সংক্রমণ পৌঁছাতে কত সময়ই বা লাগবে? আপনার বাড়ির পাশের পুকুর বা সুইমিং পুলে অ্যামিবা নেই তো (Brain Eating Amoeba)। সতর্ক হোন এখনই।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই রোগের নাম প্রাইমারি অ্যামোবিক মেনিঙ্গোএনসেফালাইটিস (PAM)। এর জন্য দায়ী নায়েগলেরিয়া ফওলেরি নামের এক ধরনের প্যারাসাইট, যা মূলত গরম, স্থির জলে জন্মায়। শুধু সংক্রমিত জল পান করলেই নয়, বরং সেই জলে সাঁতার কাটলে বা স্নান করলে এই অ্যামিবা নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। সেখানে ব্রেন টিস্যু ধ্বংস করে ফেলে এবং মস্তিষ্ক ফুলে যায়।
উপসর্গ শুরু হয় মাথাব্যথা, জ্বর, বমি, মাথা ঘোরা দিয়ে। অনেক সময় রোগীকে 'ভাইরাল মেনিনজাইটিস' বলে ধরে নেওয়া হয়। মস্তিষ্ক ফুলে ওঠে বা জল জমে যায় এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এমনকি কোমাতেও চলে যেতে পারেন রোগী।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ চিহ্নিত করা গেলে অ্যান্টি-মাইক্রোবায়াল ককটেলের মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব। এজন্য সিএসএফ টেস্ট জরুরি। কেরল সরকার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, কেউ যদি পুকুর বা ঝিলে স্নানের পর মাথাব্যথা, জ্বর, বমি, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গে ভোগেন, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রাজ্যজুড়ে পুকুর-ঝিল পরিষ্কারে ক্লোরিন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেরলের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এখন আগাম সতর্ক হয়ে মিল্টেফোসিন দেওয়া হচ্ছে অ্যাম্ফোটেরিসিন-বি-র (Amphoterisine B) মতো প্রচলিত ওষুধের পাশাপাশি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আইসিইউ স্তরের নিবিড় চিকিৎসা, মস্তিষ্কে চাপ নিয়ন্ত্রণ, খিঁচুনি সামলানো এবং দ্রুত সঠিক রোগ নির্ণয়ের সুবিধা। সব মিলিয়ে PAM-এর ভয়ঙ্কর পরিণতি আটকানোর লড়াইয়ে রাজ্য এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সাঁতার কাটলে নোজ-ক্লিপ ব্যবহার করা এবং স্থির জল এড়িয়ে চলাই আপাতত একমাত্র প্রতিরোধ।