
শেষ আপডেট: 5 December 2020 08:13
শুধুমাত্র চেহারা, স্বভাবের কারণেই তাকে মোগলি বলে ডাকে সেখানকার মানুষ। অতিষ্ট করে তোলে এলির জীবন। কখনও কখনও দেখা যায় সরাসরি ওকে মানুষ না, পশু বলেই চিহ্নিত করছেন স্থানীয় লোকজন। কিন্তু এলি তো মানুষ! ওরও মন আছে! দিনের পর দিন আঘাত সহ্য করতে না পেরে ও সরে এসেছে মানুষের থেকে। এখন সারাদিন জঙ্গলেই কাটায়।
এলির এক বিরল রোগ আছে। মাইক্রোসেফালি। এর ফলে দেহ মানুষের মতো হয়। কিন্তু মাথা দেহের থেকে খানিকটা ছোট হয়। এলি ছোট থেকেই কথা বলতে পারে না। তাই কোনওদিন স্কুলে যেতে পারেনি। বাড়ির রান্নার বদলে জঙ্গলে ঘুরে কাঁচা ফল, শাক, সবজি, ঘাস, পাতা এগুলোই খায়।
সম্প্রতি অ্যাফ্রিম্যাক্স টিভি চ্যানেলের এক সাংবাদিক এলির খবর সর্বসমক্ষে নিয়ে আসেন। সারা বিশ্বের মানুষ চমকে ওঠেন এলিকে দেখে। জানা যায় এলি একা থাকে না। সঙ্গে ওর মা থাকে। সমাজের কুরুচিকর মন্তব্য, খেপানো, এগুলো সহ্য করতে না পেরে দু'জনে মিলে এখন জঙ্গলে থাকেন। জানা যায় পাঁচ সন্তান মারা যাওয়ার পর এলি। এলিকে ঘিরেই তাঁর জীবন। তিনি কোনও চাকরি করেন না। তাঁকেও জঙ্গলের খাবার খেয়েই কাটাতে হয়।
এলি আর তাঁর মায়ের দুর্দশার কথা জানার পর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় 'গো ফান্ড মি' নামের এক পেজ খোলা হয়। সেখানেই তাঁদের কথা বর্ণনা করে লেখা হয়, "আপানারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে,ওরা দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। আসুন আমরা প্রত্যেকে হাতে হাত মেলাই। ওদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে দি।"
আবেদনের পর সারা পৃথিবীর বেশ কিছু মানুষ এলি আর তাঁর মায়ের পাশের দাঁড়ানোর জন্য এগিয়ে এসেছেন ইতিমধ্যেই। জমা পড়ছে প্রচুর টাকা। সকলেই এলির জন্য প্রার্থনা করছেন। এই পুরো টাকাটাই তুলে দেওয়া হবে এলির মায়ের হাতে। যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের থাকা, খাওয়ার আর কোনও সমস্যা দেখা না দেয়।