.webp)
শেষ আপডেট: 27 November 2023 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসকেএম হাসপাতালের মর্গ থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত বন্দির দেহ উধাও এর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের তরফে ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আদালত সূত্রের খবর, মামলাটি গ্রহণ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ওই বন্দির পরিবারের তরফে আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী তাপস ভঞ্জ। লিখিত পিটিশনে আদালতকে তিনি জানিয়েছেন, গত ২০ অক্টোবর প্রেসিডেন্সি জেলের মধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিপ্লব কোল্লের। হাসপাতালের মর্গেই রাখা ছিল তার দেহ। পরের দিন ২১ নভেম্বর ম্যাজিসট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ ময়ানতদন্তের কথা ছিল। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে দেখেন মর্গে দেহ নেই।
এরপরই গত শুক্রবার পরিবারের তরফে আদালতে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী তাপসবাবু। তিনি বলেন, "এসএসকেএম হাসপাতালের মর্গ থেকে দেহ লোপাট হয়ে গেল! এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পরিবার সুবিচার চাইছেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হতে পারে।"
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে একটি খুনের অভিযোগে হাওড়ার আমতা থানার পুলিশ বিপ্লব পোল্লে নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। হাওড়া জেলা আদালত বিপ্লবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছিল। প্রথমে তাকে রাখা হয়েছিল হাওড়া জেলে। পরে ২০১৯ সালে বিপ্লবকে প্রেসিডেন্সি জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই ছিল ওই বন্দি।
কে বা কারা, কী কারণে ওই বন্দির দেহ উধাও করল, তা নিয়ে ক্রমেই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যেও খুনের তত্ত্ব সামনে আনছে মৃত বন্দির পরিজনেরা। পরিবারের অভিযোগ, বিপ্লবকে জেলের মধ্যে খুনই করা হয়েছে। তাই তথ্য প্রমাণ লোপাটের জন্যই মর্গ থেকে তার দেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্ত কোনও বন্দির অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহর ময়নাতদন্ত করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করতে হয়। পরে ওই ভিডিওগ্রাফি জাতীয় ও মানবাধিকার কমিশনে পাঠাতে হয়।