মনামী পেশায় সোনার দোকানের কর্মী। তিনি চন্দননগরের বাগবাজার এলাকার একটি গয়নার দোকানে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, কর্মস্থলে নিয়মিত হেনস্থার জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মনামী।

মৃত যুবতী
শেষ আপডেট: 23 October 2025 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইফোঁটার (Bhai Phonta) দিন শোকের ছায়া চন্দননগরে (Chandannagar)। দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর গঙ্গা থেকে উদ্ধার হল এক যুবতীর দেহ। মৃতের নাম মনামী ঘোষ (২৫), বাড়ি চন্দননগরের বউবাজার এলাকায়। পুলিশের (Police) প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা। তবে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ।
মনামী পেশায় সোনার দোকানের কর্মী। তিনি চন্দননগরের বাগবাজার এলাকার একটি গয়নার দোকানে কাজ করতেন। পরিবারের দাবি, কর্মস্থলে নিয়মিত হেনস্থার জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন মনামী। অভিযোগ, সেই কারণেই মঙ্গলবার দুপুরে তিনি গঙ্গায় ঝাঁপ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন দুপুরে চন্দননগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে কিছুক্ষণ বসেছিলেন মনামী। পরে একটি চিঠি লিখে, সেটি নিজের মোবাইলের নীচে রেখে গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। সাঁতার জানতেন না তিনি, ফলে আর উপরে উঠতে পারেননি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। স্পিডবোট ও ডুবুরি নামিয়ে দু’দিন ধরে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীরামপুরের গঙ্গার ঘাট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
মনামীর মৃতদেহ শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে চন্দননগর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই সোনার দোকানের মালিকের স্ত্রী মমতা দাসকে আটক করা হয়েছে।
মনামীর পরিবার জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই তাঁর রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়ে গিয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিবাহ অনুষ্ঠান। লজ ভাড়া, ক্যাটারিং বুকিং থেকে কেনাকাটা— সব প্রস্তুতিই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। ঠিক সেই সময় এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও পাড়ায়।
পরিবারের দাবি, ‘‘দোষীদের কঠোর শাস্তি না হলে মনামীর আত্মার শান্তি হবে না।’’ পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।