প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) নির্দিষ্ট করে মাত্র ৪০ জনকে শুনানির জন্য ডাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিএলও (BLO) সেই নির্দেশ মানেননি।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 January 2026 21:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভার খড়িবাড়ি এলাকায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানিতে (SIR hearing) বিশৃঙ্খলার ঘটনায় এক বিএলও সুপারভাইজারকে শোকজ করা হল।
সূত্রের খবর, খড়িবাড়ি বিডিও অফিসে (BDO Office) মোট ১৬৯ জনের শুনানি (SIR hearing) হওয়ার কথা থাকলেও সকলেই একসঙ্গে হাজির হয়ে পড়েন। ফলে শুনানি কেন্দ্রে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) নির্দিষ্ট করে মাত্র ৪০ জনকে শুনানির জন্য ডাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিএলও (BLO) সেই নির্দেশ মানেননি। তিনি ১৬৯ জনকেই একসঙ্গে শুনানির জন্য ডেকে নেন। যার জন্য পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ওই বিএলও সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস (Show Cause Notice) জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্যে ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া (SIR hearing) শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে এই শুনানি পর্বের উপরেই। তার আগে কমিশন নিযুক্ত ৪ হাজার ৬০০ মাইক্রো অবজার্ভারকে নিজেদের দায়দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে সিইও দফতর।
ভোটারদের শুনানির জন্য মূলত দায়িত্বে রয়েছেন ইআরও এবং এইআরও-রা। মাইক্রো অবজার্ভারদের কাজ হল মূলত এই শুনানি প্রক্রিয়ার তদারকি করা। গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি চালানো। কমিশনের তরফে ৯টি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের এই কর্মীদের।
বস্তুত, গত শনিবার থেকে রাজ্যে ভোটার-শুনানি শুরু হয়েছে। চলছে ভোটারদের নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। তার আগে থেকেই সিইও দফতর (CEO Office) জানিয়ে দিয়েছিল, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে না। অসুস্থ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের বিষয়টিও ক্ষেত্রবিশেষে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছিল কমিশন। তবে শুনানি পর্ব শুরু হতেই কার্যত এক ভিন্ন দৃশ্য দেখা যায় জেলায় জেলায়। অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থেকে শুরু করে গুরুতর অসুস্থ ভোটার— সকলকেই লাইন দিতে হয় শুনানিকেন্দ্রের বাইরে। এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সে করে শুনানিতে যেতেও দেখা গিয়েছে।
পর পর এই ঘটনাগুলি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধতেই তড়িঘড়ি গত সোমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতেও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটার, অসুস্থ বা বিশেষ ভাবে সক্ষমদের শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে না। তাঁরা অনুরোধ করলে তাঁদের বাড়িতে গিয়েই শুনানি করা হবে। তবে কতটা অসুস্থ হলে তাঁকে অসুস্থ বলে বিবেচনা করা হবে— তা নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা ছিল না কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, বিচ্ছিন্ন বসতি, বনাঞ্চল এলাকা, যোগাযোগ ও পৌঁছনোর সমস্যাসহ অন্যান্য স্থানীয় বিষয়গুলো বিবেচনা করে নতুন শুনানি কেন্দ্রের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করেন বেশকিছু জেলার ডিইও (ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার)। ডিইও-দের সেই আবেদনে মান্যতা দিয়ে নতুন শুনানি কেন্দ্রের সংখ্যা জানিয়ে দিল নির্বাচন সদন। রাজ্যের ১২ টি জেলায় মোট ১৬০ টি নতুন শুনানি কেন্দ্রের মধ্যে দার্জিলিং জেলায় ৩৯ টি, আলিপুরদুয়ার জেলায় ৩৮টি, জলপাইগুড়ি জেলায় ১৭টি, বাঁকুড়া ১৪টি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় ১১টি করে, পুরুলিয়া ৯টি, উত্তর ২৪ পরগনায় ৬টি, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, কালিম্পং জেলায় ৪ টি করে এবং হাওড়া জেলায় ৩টি।