বিহার ভোটে জয়ের পর থেকেই বাংলায় উৎসবের আবহ বিজেপির কর্মীদের মধ্যে।
.jpeg.webp)
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
শেষ আপডেট: 15 November 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে পদ্মশিবিরের জয়ের ঢেউ এসে পৌঁছেছে বাংলার রাজনীতির (West Bengal) দুয়ারেও। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Modi ভাষণেই উঠে এসেছিল বাংলার প্রসঙ্গ। বিহার জয়ের পর তিনি বলেন, “গঙ্গা কিন্তু বিহার থেকেই বাংলায় যায়। বিহার বাংলা জয়ের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলার মানুষকে বলছি— আপনাদের সঙ্গে নিয়েই জঙ্গলরাজ উপড়ে ফেলব।”
শনিবার মোদীর এই মন্তব্যের জবাবে পাল্টা তির ছুড়লেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় (,SukhenduSekhar Ray)। তাঁর খোঁচা, “গঙ্গা বিহার হয়ে বাংলায় আসে ঠিকই। কিন্তু ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে গঙ্গার বেশির ভাগ জলই কেন্দ্র বাংলাদেশে পাঠায় জেহাদিদের কল্যাণে। ভাগীরথী–ফিডার ক্যানেলের বাকি জলেই এবার বিজেপি ডুববে!”
বিহার ভোটে জয়ের পর থেকেই বাংলায় উৎসবের আবহ বিজেপির কর্মীদের মধ্যে। ব্যানার, কুশপুতুল নিয়ে উচ্ছ্বাসের মাঝেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, “অঙ্গ-কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ দখল হবেই।” মোদীর ভাষণে বাংলার উল্লেখ কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করেছে।
যদিও গেরুয়া উচ্ছ্বাসের মাঝেই তৃণমূলের পাল্টা অঙ্ক কষে জবাব দিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা বলেন, “বিহারে যারা ছিল, তারাই ফিরেছে। সেটাই স্বাভাবিক। কোনও প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া ছিল না। বাংলাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, এবং ফিরেও আসবেন।”
কল্যাণের আরও বক্তব্য, “বিহারে বিজেপি–নীতীশ মিলিয়ে শক্ত সংগঠন। বাংলায় তৃণমূলের সংগঠন দুর্দান্ত, বিজেপির সংগঠন অতি দুর্বল। অঙ্ক ধরলে বিজেপির খুশি হওয়ার মতো কিছু নেই।”
তৃণমূলের সাংসদ টেনে আনলেন এসআইআর-এর প্রসঙ্গও। তাঁর কথায়, “বিহারে এসআইআর ছিল না। বাংলায় বিজেপি যেভাবে বাঙাল–মতুয়া সমাজের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, সেই অঙ্কে ওরাই পিছিয়ে যাচ্ছে।”
বিহারের ভোট-পরবর্তী আবহ আছড়ে পড়েছে বাংলার রাজনীতিতে। গঙ্গার স্রোতে বিজেপির ভাসা না ডোবা— তা এখন অঙ্কে, তর্কে, পাল্টা-তর্কে ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনার পারদ।