অসীম সরকারের দাবি, কল্যাণী AIIMSএর হাউসকিপিংয়ে কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সেখানে নিযুক্ত ৮৪ জনের মধ্যে ৩০ জনকে অম্বিকা রায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভুয়ো আই কার্ড বানিয়ে কাজে যোগ দিতে সাহায্য করেছেন।

শেষ আপডেট: 29 October 2025 11:42
এবার নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়াল কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়ের। অভিযোগ আনলেন তাঁরই দলের আরেক বিধায়ক অসীম সরকার। হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীমবাবু প্রকাশ্যেই অম্বিকাবাবুর বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ জানিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানালেন। এই তুমুল শোরগোল পড়ল জেলা বিজেপির অন্দরে।
অসীম সরকারের দাবি, কল্যাণী AIIMSএর হাউসকিপিংয়ে কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সেখানে নিযুক্ত ৮৪ জনের মধ্যে ৩০ জনকে অম্বিকা রায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভুয়ো আই কার্ড বানিয়ে কাজে যোগ দিতে সাহায্য করেছেন। অসীমবাবু বলেন, "এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আড়ালে বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। তাই আমি সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি যাতে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পায়। এই ঠিকাকর্মীদের কেই মেধার ভিত্তিতে চাকরি পায়নি। প্রত্যেকেই পেয়েছে সুপারিশে। শুধু আমাদের দল ময়, তৃণমূল-আইএসএফ প্রত্যেকেই স্থানীয় ছেলেমেয়েদের জন্য চাকরির সুপারিশ করেছে। কিন্তু অম্বিকাবাবু যে ভাবে ভূবনেশ্বর এইমসের ভুয়ো কার্ড তৈরি করে এই ৩০ জনকে চাকরি দিয়েছেন তা নজিরবিহীন ঘটনা। আমি এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত চাইছি।"
এদিকে, বিজেপির গয়েশপুর মণ্ডল সভাপতি বিশ্বজিৎ পালও অসীম সরকারের অভিযোগকে অবিবেচনাপ্রসূত বলে দাবি করেছেন। অসীমবাবু অভিযোগের তির রয়েছে গয়েশপুর মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধেও। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, "আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম তিনমাস কাজ করেও মায়না পাচ্ছেন না এইমসের ওই ঠিকা কর্মীরা। সেই নিয়ে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যাই। তারপরেই এই ভুয়ো নিয়োগপত্রের বিষয়টি আমরা জানতে পারি।"
এতদিন শিক্ষক নিয়োগ, পুর নিয়োগ-সহ আরও একাধিক দুর্নীতিতে পরপর জড়িয়েছে তৃণমূল নেতাদের নাম। তাই নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। এবার তাদের নিজেরই দলের এক বিধায়ক অন্য বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। বিজেপির এই কোন্দলে মজা খুঁজছে তৃণমূল কংগ্রেস। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস গাঙ্গুলি বলেন, “বিজেপি স্লগ ওভারে এসে নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে খেলছে।” বিজেপি নেতাদের একাংশের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সংঘাত দলের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। সবমিলিয়ে, এক বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের অন্য বিধায়কের আনা দুর্নীতির অভিযোগে সাড়া পড়ল রাজ্য রাজনীতিতে।