
দিলীপ ঘোষ
শেষ আপডেট: 5 June 2024 11:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলীয় প্রচার হোক কিংবা বিরোধীদের আক্রমণ, ‘ফিল্টার’ করে তিনি কখনও কথা বলেননি। বেফাঁস মন্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজেকে এতটুকু বদলাননি রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যা দিলীপ ঘোষের অনন্য স্টাইল হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু আপত্তিকর শব্দচয়নের কারণে বদনাম যতই থাকুক না কেন, তাঁর রাজনৈতিক সত্তা নিয়ে এতদিন প্রশ্ন তোলার সাহস হয়নি কারও। এমনকী বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রীরাও এযাবৎ সংগঠক হিসেবে দিলীপের প্রশংসাই করে এসেছেন। উনিশের লোকসভায় বঙ্গ বিজেপিকে যে দিলীপ ঘোষ সাফল্যের স্বাদ দিয়েছিলেন, চব্বিশের লড়াইয়ে তাঁরই অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে।
মঙ্গলবার গণনার প্রথম কয়েক রাউন্ডের মধ্যেই পিছিয়ে পড়তে শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। শেষ পর্যন্ত বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে বড় ব্যবধানে হেরে যান তিনি। তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ তাঁকে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৬৪ ভোটে পরাজিত করেন।
লোকসভা নির্বাচনের আগে দিলীপের উপর বড় খাঁড়া নেমে আসে। ২০১৯ সালে যে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে দিলীপ ৮৮ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন, সেই কেন্দ্র থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দিলীপ ঘোষের তৈরি করে রাখা জমি দলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলের হাতে তুলে দেয় গেরুয়া শিবির। যদিও অগ্নিমিত্রাও তৃণমূলের জুন মালিয়ার কাছে হেরে গেছেন।
জায়গা বদল হলেও বরাবরই জয় নিয়ে ‘আত্মবিশাসী’ ছিলেন দিলীপ। প্রচারে একাধিকবার তাঁর মুখে শোনা যায়, ‘দল তাঁর জন্য যা ভাল মনে করেছে তাই করেছে। তিনি জিতবেন।‘ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তবে কি কেন্দ্র বদলের সিদ্ধান্তের জন্যই এই পরাজয়, ইতিমধ্যে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আর সেই নিয়ে মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ।
কেন্দ্র পরিবর্তনের পর তিনি যখন জোরকদমে প্রচার করছিলেন সেই সময় আচমকাই তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আন্দামানে প্রচারের কাজে। কিন্তু দিলীপকে বরাবরই দলের উপর আস্থা রাখতে দেখা গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কালাপানি কাকে বলে আমি জানি। চক্রান্ত এবং কাঠিবাজি রাজনীতির অঙ্গ। আমি ব্যাপারটা সেভাবেই নিয়েছি। তারপরেও যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি। কিন্তু সফলতা আসেনি।”
হারের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, “আমাকে দল যখন যা বলেছে আমি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছি। পুরো ইমানদারি দিয়ে করেছি। ফাঁকি রাখিনি। এবার বর্ধমানে হেরে যাওয়া কঠিন সিট ছিল। যারা সেখানে সেদিন ছিলেন তারাও মেনেছেন একটা জায়গায় অন্ততঃ লড়াই হয়েছে।”