দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবারই অযোধ্যায় লক্ষাধিক সাধুসন্ত ও ভক্তের সমাবেশ করতে চলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। একইদিনে অযোধ্যায় যাচ্ছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। অশান্তির আশঙ্কায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। এই পরিস্থিতিতে দলিত নেত্রী মায়াবতী মন্তব্য করেন, বিজেপি ভোটে হারছে, তাই এখন তুলছে রামমন্দিরের কথা। যদি তাদের উদ্দেশ্য ভালো হত, তা হলে পাঁচ বছর অপেক্ষা করল কেন? আগে তারা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পাঁচ বছরে অর্ধেকও পালন করেনি।
দলিত নেত্রীর কথায়, কেন্দ্র ও রাজ্য, সব জায়গায় বিজেপির সরকার ব্যর্থ। ছত্তীসগড় ও মধ্যপ্রদেশ, দুটি রাজ্যেই বিজেপি হারবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানেন, তিনি আর ক্ষমতায় ফিরছেন না। নিজের ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য বিজেপি এখন রাম মন্দিরের ইস্যু তুলছে । এসবই রাজনীতি ছাড়া কিছু নয়। তাদের সঙ্গী ভিএইচপি বা শিবসেনা যা করছে, তা সবই এক ষড়যন্ত্রের অঙ্গ।
একইসঙ্গে ভীম আর্মি এবং বহুজন ইউথের মতো বিএসপি বিরোধী দলিত সংগঠন সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা আমার বিরোধীদের হয়ে কাজ করছে। গোপনে তারা আমাদের পার্টির সমর্থকদের বলছে, আমরা বহিনজিকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেব। তারা মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলছে। সরল মানুষকে তারা উচ্চবর্ণের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে।
এর আগে মায়াবতী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধছেন না। আসন ভাগাভাগি নিয়ে রাহুল গান্ধীর দলের সঙ্গে তাঁদের ঐকমত্য হয়নি। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় জোট করবেন কিনা বলেননি। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মায়াবতী কংগ্রেসের সঙ্গে ঐক্যের রাস্তা খুলেই রেখেছেন। দলিত নেত্রী ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে যদি আসন সমঝোতা নিয়ে সমস্যা না হয়, তা হলে জোটে যোগ দেওয়ার কথা ভেবে দেখবেন।
লোকসভা ভোটে দীর্ঘকালের বিরোধী সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যে জোট করবেন, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন দলিত নেত্রী। কংগ্রেসের আশা মায়াবতী এবং অখিলেশ, দুজনেই বিজেপি বিরোধী জোটে যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, যে কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয়েছে, তাতে কংগ্রেস ও বিজেপি কেমন ফল করে তার পরে নির্ভর করছে, বিরোধী জোটে মায়াবতী থাকবেন কিনা। যদি কংগ্রেস ফল ভালো করে, তাহলে বিজেপি বিরোধী জোটে ভিড় বাড়বে।