তৃণমূলের অভিযোগ, “বিজেপি কোনওদিনই রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতে জানে না। এবারও পরিকল্পনামাফিক ইতিহাস বিকৃত করে কবিগুরুকে অপমান করছে।”

ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজা
শেষ আপডেট: 7 November 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ইংরেজদের খুশি করতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) লিখেছিলেন জনগণমন’ (Jana Gana Mana)। কর্নাটকের বিজেপি সাংসদ (BJP MP) বিশ্বেশ্বর কাগেরির এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কবিগুরুর সম্মানহানি হয়েছে বলে আওয়াজ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja) বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁদের অভিযোগ, “বিজেপি কোনওদিনই রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতে জানে না। এবারও পরিকল্পনামাফিক ইতিহাস বিকৃত করে কবিগুরুকে অপমান করছে।”
বিশ্বেশ্বর কাগেরির দাবি, 'জনগণমন' মূলত ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জকে স্বাগত জানিয়ে লেখা হয়েছিল। তাঁর মতে, ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হওয়া উচিত ছিল 'বন্দে মাতরম'। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। কর্নাটকের শাসকদল কংগ্রেসও বিজেপির এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে।
ব্রাত্য বসু পাল্টা বলেন, “এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জনগণমন লেখার সঙ্গে পঞ্চম জর্জের আগমনের কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি মিথ্যাকে ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরছে। এভাবে কবিগুরুকে ছোট করা চলবে না।”
তিনি তুলনা টেনে আরও বলেন, “পুজোর সময় মুখ্যমন্ত্রীর লেখা গান প্রকাশিত হয়, আর সেই সময় যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্বোধনে আসেন, তাহলে কি বলা যাবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে গান লিখেছেন? এ তো হাস্যকর যুক্তি!”
মন্ত্রী আরও বলেন, “বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি। এটা তাদের পুরনো কৌশল। বাঙালি এই অপমান কোনওভাবেই মেনে নেবে না।”
প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নতুন নয়। অতীতে বহুবারই অভিযোগ উঠেছে যে, 'জনগণমন' পঞ্চম জর্জকে স্বাগত জানাতেই লেখা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসবিদরা বারবার জানিয়েছেন— কবিগুরু নিজেই স্পষ্ট করে লিখেছিলেন, তাঁর এই গান মানুষের ‘জননায়ক’-কে উদ্দেশ্য করে, কোনও রাজাকে নয়।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ইতিহাস বিকৃত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে এই বিতর্ক ফের রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি বাড়িয়ে দিল।
ঘটনা হল, বুধবার হন্নাভরে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাগেরি বলেন, “আমি ইতিহাস খুঁড়ে দেখতে চাই না। তখন ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীত করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষেরা সিদ্ধান্ত নেন ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’— দুটোই থাকবে। ‘জন গণ মন’ তখন রচিত হয়েছিল ব্রিটিশ অফিসারকে স্বাগত জানানোর জন্য।”
তাঁর আরও দাবি, ‘বন্দে মাতরম’-এর অবদান দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চিরকালই অনুপ্রেরণার উৎস। তাই এই ১৫০ বছরে সেটি প্রত্যেকের কাছে পৌঁছানো উচিত। স্কুল, কলেজ, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।