দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার নতুন স্ট্রেনের আতঙ্কের মধ্যেই বার্ড-ফ্লু ভাইরাসের ভয় ছড়িয়েছে রাজস্থানে। রবিবার সাতটি কাককে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল জল মহলের সামনে। সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। বার্ড-ফ্লু ভাইরাস ছড়াচ্ছে কিনা সে নিয়ে আশঙ্কা দেখা দেয়। রাজ্যে এখন আড়াইশোর বেশি কাকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত পাখির শরীর থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে বার্ড-ফ্লু ভাইরাসের স্ট্রেনও মিলেছে। রাজস্থান শুধু নয় ঝাড়খণ্ডেও বার্ড-ফ্লুয়ের সতর্কতা জারি হয়েছে।
রাজস্থানের অ্যানিমাল হাসব্যান্ড্রির মুখ্যসচিব কুঞ্জি লাল মিনা বলেছেন, কোটা, জোধপুর, জয়পুর সহ একাধিক জেলায় কাকের মৃত্যু হচ্ছে ভাইরাসের সংক্রমণে। জালাওয়ালের ১০০টি, বারানে ৭২টি, কোটায় ৪৭টি, পালিতে ১৯টি, জোধপুরে ৭টি, জয়পুরে ৭টি মৃত কাক উদ্ধার হয়েছে আজ অবধি।
বার্ড-ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণেই পাখি মৃত্যু হচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখতে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। সেখানেই এইচফাইভএন৮ ভাইরাসের স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছে। চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি জেলায়।
বার্ড-ফ্লু ভাইরাস হল বিশেষ ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যা পাখিদের শরীরেই সংক্রামিত হয়। সেখান থেকে মানুষের শরীরেও ঢুকতে পারে। থুতু-লালা ড্রপলেটের মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ভারতে এখনও অবধি দুই ধরনের বার্ড-ফ্লু ভাইরাসের স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে—এইচ৫এন১ এবং এইচ৭এন৯। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের শরীরে ঢুকলে করোনাভাইরাসের মতোই দ্রুত বিভাজিত হতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেন। সংক্রমণও ছড়াতে পারে দ্রুত। উপসর্গও করোনা সংক্রমণের মতোই।
রাজস্থানের অ্যানিমাল হাসব্যান্ড্রি দফতরের সচিব আরুশি মালিক জানিয়েছেন, এখনও অবধি ৭৫টি কাকের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত পাখিদের সংস্পর্শে আসতে মানা করা হচ্ছে। যেখান থেকে কাক মৃত্যুর খবর আসছে সেখানে দ্রুত নমুনী পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সেই জায়গার জলাশয়গুলিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।