শেষ আপডেট: 15 November 2023 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামান্য পারিবারিক অশান্তি যে কোন জায়গায় পৌঁছাতে পারে তার সাক্ষী রইল বীরভূমের মুরারইয়ের বড়ুয়া গোপালপুর গ্রাম। বাবা-ছেলের অশান্তি আর চিৎকারে কান পাতা দায় হচ্ছিল। তাই প্রতিবাদ করেছিলেন প্রতিবেশী মহিলা। তখনকার মতো ঝামেলা থামলেও মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেন বাবা। সেই রাগে ছুরি হাতে পড়শি ওই মহিলার উপর চড়াও হল ছেলে। কোপাতে কোপাতে তাঁর শরীর থেকে অন্ত্র বের করে আনল!
চোখের সামনে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড দেখে শিউরে উঠেছেন স্থানীয়রা। এখনও ধাতস্থ হতে পারছেন না কেউই। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে বাবা আজহার শেখের সঙ্গে তুলকালাম অশান্তি শুরু হয় ছেলে মালেক শেখের। দুজনে চিৎকার চেঁচামেচিতে নাকি কান পাতা দায় হচ্ছিল। তাতেই রেগে ওঠেন পাশের বাড়ির আরজিনা বিবি। অভিযোগ, তিনি নাকি চিৎকার করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন বাবা-ছেলেকে।
সেই গালাগালের জেরেই তখনকার মতো ঝামেলা মেটে। কিন্তু ছেলে এবং পড়শির হাতে এমন হেনস্থা মেনে নিতে পারেননি আজহার। তিনি কিছুক্ষণ পরেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাস্তার মধ্যেই আত্মহত্যা করেন।
সেই খবর পেতেই মালেক শেখের ধারণা হয়, তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী আরজিনা বিবিই। এরপরেই বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে ছুরি হাতে আরজিনার বাড়িতে চড়াও হয় সে। জোর করে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে আরজিনা বিবিকে দেখতে পেয়েই এলোপাথাড়ি ছুরি চালাতে শুরু করে মালেক ও তার দুই বন্ধু এমদাদুল এবং সিরাজুল।
আজিনা বিবির চিৎকারে ছুটে আসেন বাড়ির লোকজন। মা মহিমা বিবি, স্বামী দুলাল শেখ এবং আরজিনার কন্যা তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁদের উপরেও চড়াও হয় তিনজন। মহিমা বিবির হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয়, ছুরি চালানো হয় দুলাল শেখের পেটেও। স্থানীয়দের দাবি, আরজিনা বিবিকে এমনভাবেই কোপানো হয়েছিল যে তাঁর অন্ত্র বেরিয়ে এসেছিল শরীর থেকে।
আক্রান্তদের প্রবল চিৎকারে ছুটে আসেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। তখন পালিয়ে যায় তিন অভিযুক্ত। পাড়ার লোকজনই সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আরজিনা বিবির মৃত্যু তো হয়েছে বটেই, সেই সঙ্গে দুলাল শেখ এবং মহিমা বিবির অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদের মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছেছে পুলিশ। তাঁরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। অভিযুক্ত মালেক ও খুনে অভিযুক্ত তার দুই বন্ধুর সন্ধানে তল্লাশি চলছে।