দ্য ওয়াল ব্যুরো : ধর্ম আর জাতপাতের ভেদাভেদ ঘোচানো শিক্ষার অন্যতম দায়িত্ব। অথচ সেই শিক্ষাকেন্দ্রেই চলছে ভেদাভেদ আরও গভীর ভাবে পড়ুয়াদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার কাজ। এমনই এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিহারের একটি সরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিহারের শিক্ষামন্ত্রী।
সরকারের কাছে জমা পড়া প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই স্কুলে হিন্দু ও মুসলিম পড়ুয়ারা আলাদা ঘরে ক্লাস করে। শুধু তাই নয়, দলিত, ওবিসি ও তথাকথিত উঁচু জাতের ছাত্রদের জন্যও আলাদা আলাদা ক্লাসরুমে বসার ব্যবস্থা। উপস্থিতি লেখার যে রেজিস্টার সেগুলিও পর্যন্ত আলাদা। তবে এই ভেদাভেদ ক্লাসরুমেই। ক্লাসের বাইরে খেলার মাঠে, দল বেঁধে স্কুলে আসা ও যাওয়ার সময় কোনও ভেদাভেদই আলাদা করে রাখতে পারে না পড়ুয়াদের।
বিহারের বৈশালী জেলার লালগঞ্জের একটি সরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ধর্ম ও জাতের ভি্তিতে সেখানে ছাত্রদের আলাদা ভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকী, শ্রেণিকক্ষও তার ভিত্তিতে আলাদা করা থাকে। বিহারের শিক্ষামন্ত্রী কৃষ্ণান্দন প্রসাদ বর্মা বলেছেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা তদন্ত করে দেখছি, সত্যি হলে দোষীদের শাস্তি হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কার্যত স্বীকারই করে নিয়েছেন তাঁর স্কুলে ধর্ম ও জাতের ভিত্তিতে আলাদা করে বসানোর ব্যবস্থা আছে। তাঁর যুক্তি, সরকারের নানা প্রকল্প কার্যকর করা ও পড়ুয়াদের তার সুযোগ সুবিধে দেওয়ার জন্য এই আলাদা বসানোর ব্যবস্থা। প্রধান শিক্ষিকা জানান, কোনও পড়ুয়া বা অভিভাবক এ সব নিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি, তাই ওই ব্যবস্থাই চলে আসছিল। তবে তাঁর দাবি, এর জন্য কাউকে কোনও ভাবে বঞ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাটা যে সত্যি তার ইঙ্গিত দিয়েছেন লালগঞ্জের ব্লক শিক্ষা অফিসার অরবিন্দ কুমার তিওয়ারি। তিনি স্কুল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে ওই অভিযোগ সত্য বলেই তাঁর মনে হয়েছে। তিনি জেলা শিক্ষা দফতরে এই নিয়ে রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন যাতে দোষীরা শাস্তি পায়।