দ্য ওয়াল ব্যুরো : আফগানিস্তান থেকে তড়িঘড়ি সেনা সরিয়ে আনার পরে আন্তর্জাতিক মহলে ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের (Biden) ভাবমূর্তি। এবার তাঁর আহ্বানে আগামী সোমবার বৈঠকে বসছে কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি। ওই গোষ্ঠীতে আছে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কোয়াড গোষ্ঠীর অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধান হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসবেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে চার রাষ্ট্রপ্রধানের শীর্ষ সম্মেলন হবে।
আগামী সপ্তাহেই নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশন বসতে চলেছে। মোদী সেখানেও যোগ দেবেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইওশিহিদে সুগাও অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। এর আগে মার্চে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন কোয়াড গোষ্ঠীর চার রাষ্ট্রপ্রধান। চিনের আগ্রাসী মনোভাবের মোকাবিলা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন। একইসঙ্গে স্থির হয়, কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি এবং পরিবেশ দূষণ রোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে কোয়াড। সেই সঙ্গে ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যাতে চিনের শক্তিবৃদ্ধি না ঘটে সেদিকেও নজর রাখা হবে।
আগামী সোমবার কোয়াড বৈঠকেও ভারতীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে কথা হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন ওই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে বাইডেনের উপদেষ্টা কুর্ট ক্যাম্পবেল গত জুলাই মাসে বলেছিলেন, ভ্যাকসিন কূটনীতি ও পরিকাঠামো নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমেরিকার অভ্যন্তরে পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপরে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বাইডেন। গত মার্চে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে বলেছিলেন, চিন যেভাবে পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে পরিকাঠামো নির্মাণে জোর দিয়েছে, তার পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া উচিত গণতান্ত্রিক দেশগুলিরও। তাদেরও উচিত পরিকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া।
সাকি বলেন, কোয়াড গোষ্ঠীর রাষ্ট্রপ্রধানরা আলোচনা করবেন মূলত চারটি বিষয়ে। প্রথমত কোভিড মোকাবিলায় চার দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। দ্বিতীয়ত পরিবেশ দূষণ রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত সাইবারস্পেসে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সব দেশই যাতে অবাধে যাতায়াত করতে পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।
গত মার্চের ভার্চুয়াল বৈঠকে কোয়াড নেতারা স্থির করেছিলেন, ভারতের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা বায়োলজিকাল ই লিমিটেড ২০২২ সালের শেষে কমপক্ষে ১০০ কোটি করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করবে। সেই ভ্যাকসিন পাঠানো হবে মূলত দক্ষিণ এশীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলিতে।