দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরেই কোভ্যাক্সিন টিকার ট্রায়াল করেছিল ভারত বায়োটেক। টিকার সুরক্ষা যাচাই করতে ১২ বছরের বেশি কয়েকজনের ওপরে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়। তবে ১২ বছরের নিচে শিশুদের শরীরে টিকার প্রভাব কেমন হবে, সে নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছিল এতদিন। জানা গিয়েছে, শিশুদের শরীরেও টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য ভারত বায়োটেককে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা। এই ট্রায়ালের পরে সবিস্তারে তথ্য জমা করতে হবে হায়দরাবাদের এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থাকে।
শনিবারই জরুরি ভিত্তিতে কোভ্যাক্সিন টিকাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠেছে, হায়দরাবাদের কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা ভারত বায়োটেক ও আইসিএমআরের যৌথ উদ্যোগে তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকার সেফটি ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্য কোথায়। কোনও মেডিক্যাল জার্নালে এই টিকার ট্রায়ালের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। তাহলে কীভাবে কোভ্যাক্সিন টিকাকে এখনই ছাড় দেওয়া হল। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার প্রথম দুই পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনেছিল ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল। ফাইজার ও মোডার্নার টিকার প্রতি পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্টের বিস্তারিত তথ্য সামনে আনে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন। ভারত বায়োটেকের টিকার তথ্য এখনও অবধি কোনও সায়েন্স বা মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।
কোভ্যাক্সিন টিকা নিয়ে যাবতীয় সংশয়ের মুখেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন জানান, এই টিকার কোনও খারাপ প্রভাব দেখা যায়নি। মানুষের শরীরে ৯৫ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারও খবর নেই। কোভিশিল্ড টিকার থেকে কোভ্যাক্সিন অনেকটাই আলাদা বলে জানিয়েছেন হর্ষবর্ধন। এই টিকা ক্লিনিকাল ট্রায়ালে থাকার সময়েই ছাড়পত্র পেয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে টিকার ডোজের প্রভাব কী, তা প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
১৮ বছরের ওপরে এবং ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের শরীরেই টিকার ডোজের ট্রায়াল হয়েছে এতদিন। কমবয়সীদের ওপরে সেভাবে ট্রায়াল হয়নি। গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসে শিশুদেরও সংক্রামিত হচ্ছে। এতদিন জানা গিয়েছিল, শিশুদের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ তেমন প্রভাব নাও ফেলতে পারে। তবে ইদানীং শিশুদেরও সংক্রমণে নানা রোগ হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষত ভাইরাস সংক্রমণে কাওয়াসাকি রোগ হতে দেখা গিয়েছে শিশুদের শরীরে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়েই শিশুদের শরীরেও টিকার ডোজের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল ভারত বায়োটেক। সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে দেশের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল। এই ট্রায়ালের ফল সামনে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে।