দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরুরি ভিত্তিতে খুব তাড়াতাড়ি টিকাকরণের অনুমতি চেয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট। অন্যদিকে আজ থেকেই ব্রিটেনে টিকা দিতে শুরু করবে ফাইজার-বায়োএনটেক। তাই আর বেশি দেরি করতে চায় না হায়দরাবাদের ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেক। শনিবারই ৮০টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনাররা কোভ্যাক্সিন টিকার প্রস্তুতি দেখে গিয়েছেন। ট্রায়ালও ভালই চলছে। এবার শিগগির টিকা দেশের বাজারে নিয়ে আসার অনুমতি চাইল কৃষ্ণা এল্লার সংস্থা।
জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে আসতে গেলে ড্রাগ কন্ট্রোলের কাছে প্রস্তাব পেশ করতে হয়। ড্রাগ কন্ট্রোলের নির্দেশে টিকার ট্রায়ালের প্রতিটি পর্যায়ের রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখে ভ্যাকসিন রেগুলেটরি গ্রুপ। মানুষের শরীরে টিকার প্রভাব কেমন সেটাও যাচাই করা হয়। টিকা নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে হলে তবেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
ভারত বায়োটেক জানিয়েছে, দেশের ১৮টি জায়গায় প্রায় ২৬ হাজার জনের ওপর টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। এখনও অবধি টিকার ডোজে কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আর কিছুদিনের মধ্যেই টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট জমা করা হবে। সুরক্ষা যাচাই করে জরুরি ভিত্তিতে টিকাকরণে অনুমতি দিতে পারে ড্রাগ কন্ট্রোল।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিন বানিয়েছে ভারত বায়োটেক। কোভ্যাক্সিন হল ইনঅ্যাক্টিভেটেড ভ্যাকসিন অর্থাৎ ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে বানানো হয়েছে। এই টিকার প্রথম দুই পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে রিপোর্ট ভাল বলেই দাবি করেছে ভারত বায়োটেক। ২৮ দিনের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল। টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংস্থার ভাইরোলজিস্টরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে টিকা ৬০ শতাংশ কার্যকরী। ভারত বায়োটেকের কোয়ালিটি অপারেশনের প্রেসিডেন্ট সাই ডি প্রসাদ বলেছেন, যে কোনও টিকা ৫০ শতাংশ কার্যকরী হলেই তাতে ছাড়পত্র দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)-এর নিয়মও তাই। প্রথম দুই পর্যায়ে টিকার ট্রায়ালের ফল দেখেই ধারণা যে টিকা ৬০ শতাংশ কার্যকরী হতে পারে। তবে এর বেশি হতেও পারে। বয়স্কদের শরীরেও ভালভাবে কাজ করবে এই টিকা। প্রথম দুই পর্বে ২০টি রেসাস প্রজাতির বাঁদরের শরীরেও টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। ১৪ দিন পরে বাঁদরদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়। ভারত বায়োটেক জানায়, টিকার ডোজে পশুদের শরীরেও অভূতপূর্ব ফল দেখা গিয়েছে।