ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’ কেটে গেলেও বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নতুন নিম্নচাপ। দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমলেও উত্তরবঙ্গে বজায় দুর্যোগ। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ডিসেম্বরের আগে ঠান্ডার দেখা নেই।

আবহাওয়া
শেষ আপডেট: 2 November 2025 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরৎ পেরিয়ে হেমন্ত এসে গেলেও, বৃষ্টির হাত থেকে এখনও রেহাই মিলছে না বাংলার। কখনও ঘূর্ণাবর্ত, কখনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব, একের পর এক দুর্যোগে ভিজছে রাজ্য। মৌসম ভবন আগেই জানিয়েছিল, এ বছর অতিবর্ষণের কারণে শীতের দাপট কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শীতের কোনও আমেজই তেমন বোঝা যাবে না বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আপাতত ডিসেম্বরের আগে ভালো ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা নেই।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের দিকে সরছে। ফলে রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়ে গিয়েছে। বিশেষত পার্বত্য এলাকায় ধস নামার ঝুঁকিও থাকছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘মান্থা’-র অবশিষ্টাংশ ইতিমধ্যেই নিম্নচাপ আকারে ঝাড়খণ্ড থেকে বিহারের দিকে সরে গিয়েছে। ফলে তার প্রভাব এখনও কিছুটা থাকলেও, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে পূর্বাভাস।
অন্য দিকে, রবিবারের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরির ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাতের তাপমাত্রা কমবে না। আজ, রবিবার কলকাতায় আকাশ বেশিরভাগ সময়ই রৌদ্রোজ্জ্বল থাকতে পারে, তবে দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার থেকে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যাবে, আকাশও পরিষ্কার থাকবে।
তবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ফের বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলের জেলাগুলিতে, বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে।
উত্তরবঙ্গে আজ রবিবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তবে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নভেম্বরের শুরুতে বৃষ্টি যেমন থামছে না, তেমনই শীতের আমেজও আসছে না তাড়াতাড়ি। হাওয়া অফিস বলছে, ‘ঠান্ডার দাপট পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে বাঙালিকে।’